উদ্দীপকের ঝুনুর সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগমের মিল রয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগম (মেহেরুন্নেসা) নবাব আলিবর্দি খানের জ্যেষ্ঠা কন্যা। তাঁর অন্য দুই কন্যা শাহ বেগম ও আমিনা বেগম। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন আমিনা বেগমের ছেলে। ঘসেটি বেগমের কোনো সন্তান না থাকায় তিনি সিরাজউদ্দৌলার ভাই একরামউদ্দৌলাকে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর প্রত্যাশা ছিল, একরামউদ্দৌলা নবাব হলে মাতা হিসেবে রাজকার্য পরিচালনা করার সুযোগ পাবেন তিনি। কিন্তু একরামউদ্দৌলা বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করেন।
উদ্দীপকের রুনু ও ঝুনু দু'বোন হলেও তারা আমিনা বেগম ও ঘসেটি বেগমের কথাই মনে করিয়ে দেয়। কারণ ঝুনুর সন্তান না থাকায় সে রুনুর সন্তানদের মাতৃস্নেহে বড় করেছে। কিন্তু তার এই স্নেহ বেশি দিন স্থায়ী হয় না। ঝুনুর মতো ঘসেটি বেগম শুধু সিরাজউদ্দৌলার ভাইকে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন তা নয়, বরং সিরাজউদ্দৌলাকেও ছোটবেলা থেকে আদর-যত্নে লালিত করেছেন। কিন্তু তাঁর পিতার ইচ্ছায় সিরাজের নবাব হওয়াটাকে মেনে নিতে পারেননি ঘসেটি বেগম। সম্পত্তির অংশীদার হতে না পেরে, সিরাজউদ্দৌলাকে হটিয়ে ক্ষমতা পাওয়ার সুযোগ না পেয়ে একসময় তিনি এটাও মনে করেন যে, আগে জানলে ছোটবেলায় দুধের শিশু সিরাজউদ্দৌলাকে প্রাসাদ চত্বরে আছড়ে মেরে ফেলতে দ্বিধা করতেন না। তাঁর এ ধরনের অন্যায় অভিপ্রায় ঝুনুর মনেও প্রতিধ্বনিত হয়, যা উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।