'ইংরেজদের পরিণতি উদ্দীপকের নিজামদের মতো হলে এ দেশের ইতিহাস পালটে যেত।'— উক্তিটি যথার্থ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ইংরেজদের দুঃসাহস ও ষড়যন্ত্রের কাহিনি প্রকাশিত হয়েছে। ইংরেজরা নবাবকে পরাজিত করে ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিল। এই লক্ষ্যে ইংরেজরা ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংগঠিত হয়। সুযোগ বুঝে নবাবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার চিন্তা করে। কিন্তু নবাব ইংরেজদের উদ্দেশ্য টের পেয়ে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ আক্রমণ করে ইংরেজদের বিতাড়িত করেন। ইংরেজরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়, কিন্তু নবাব তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না ।
উদ্দীপকের ডাকাত দলও একটি শহরে ডাকাতির প্রস্তুতি নিয়েছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ডাকাতি করে ধন-সম্পদ লুট করবে। এই লক্ষ্যে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল তারা। কিন্তু গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে নগর পুলিশ ডাকত দলের উদ্দেশ্য টের পেয়ে তাদেরকে আক্রমণ করেন এবং ডাকাত দলের সর্দার নিজামসহ সকলকে আটক করেন। পরে তাদের শাস্তি প্রদান করেন। তাই শহর ডাকাতির ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছিল।
উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘটনা আলোচনা সাপেক্ষে বলা যায় যে, নবাব সিরাজউদ্দৌলা যদি গোয়েন্দা পুলিশের মতো শাস্তির ব্যবস্থা করতেন তাহলে ইংরেজরাও অন্যায়ের পথ ত্যাগ করত। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি। নবাবের নানা দুর্বলতার কারণে ইংরেজরা বারবার সুযোগ পেয়ে যায়। কিন্তু উদ্দীপকের মতো শাস্তির ব্যবস্থা থাকলে বাংলাদেশের ইতিহাস পালটে যেত, ইংরেজরা আর দুঃসাহস দেখাতে পারত না।