উদ্দীপকটির মুক্তিসেনার 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজউদ্দৌলা একই সুত্রে গাঁথা।” কথাটি সত্যি।
ঐতিহাসিক নাটকের চরিত্র চিত্রণে নাট্যকারের সীমাবদ্ধতা অনেক বেশি। এক্ষেত্রে সিকান্দার আবু জাফর নীতিকে লঙ্ঘন না করে সিরাজ চরিত্রটি সৃষ্টি করেছেন অসাধারণ শিল্প নৈপুণ্যে।
মুক্তিসেনারা বাংলার প্রাণের পুরুষ। তারা শ্রেষ্ঠ বাঙালি। এরা বাংলাকে স্বাধীন করেছে দখলদার পাকিস্তানিদের হাত থেকে। তারা জীবনভর চেয়েছেন বাংলা ও বাঙালির সমৃদ্ধি।
তাই তারা মরে গিয়েও বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে আছেন। বঙ্গবন্ধুর এই দেশপ্রেমের বিষয়টি নাটকের নবাব সিরাজের মাঝে উপস্থাপিত হয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটি ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত হলেও এখানে বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও চেতনা সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। নাট্যকার এদেশের অতীত ইতিহাস তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন তাঁর নাটকের মাধ্যমে।
এখানে ইংরেজদের আচরণ, কৌশল ও শোষণ নীতি, নবাবের আত্মীয়দের ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা, নবাবের পরাজয় ও করুণ মৃত্যু, ইংরেজদের পুতুল সরকার হিসেবে মিরজাফরের ক্ষমতা গ্রহণ বিষয় উঠে এসেছে। এজন্যে প্রশ্নের বক্তব্যটি সত্য বলে মনে হয়।