উদ্দীপকের ইব্রাহিম কার্দি বিশ্বস্ত সৈনিকের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যার অভাব 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে প্রকট হয়ে দেখা দেয় ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর অমাত্যবর্গের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে পরাজিত হয়েছিলেন । ইংরেজদের বিরুদ্ধে তাঁর বিরাট সৈন্যের বহর থাকলেও তাদের মধ্যে বিশ্বস্ত সৈনিকের অভাব ছিল। প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের অংশ হয়ে অপ্রতুল ইংরেজ বাহিনীর সাথে যুদ্ধেও তারা নির্বিকার দাঁড়িয়ে থাকে। এতে কয়েকজন সেনা প্রাণপণে লড়াই করলেও তা নবাবের পরাজয় ঠেকাতে পারে না ।
উদ্দীপকের ইব্রাহিম কার্দি একজন বীর সৈনিক। মুসলিম-মারাঠা যুদ্ধে তিনি মুসলিম হয়েও মারাঠাদের পক্ষে যুদ্ধ করেছেন নীতিবোধের কারণে। স্ত্রী জোহরা তাঁকে মুসলিম শিবিরে ফিরে আসতে অনুরোধ জানালে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। কার্দি বলেন, যারা তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে, কর্মে নিযুক্ত করেছে সেই মারাঠাদের বিপদের দিনে তিনি তাদের ছেড়ে যেতে চান না ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে কয়েকজন সৈন্য নবাবের আস্থার প্রতিদান দেন । নবাবের আস্থাভাজন সেনাপতি মিরমর্দান, মোহনলাল, নৌবে সিং, হাজারি প্রমুখ ব্যক্তি দেশমাতৃকার স্বাধীনতা রক্ষার্থে ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। উদ্দীপকের ইব্রাহিম কার্দির মতো বিশ্বস্ত সৈনিকের অভাব 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে প্রকট। পলাশির যুদ্ধে যদি নবাবের পক্ষে তাঁর মতো বিশ্বস্ত আরো সৈন্য থাকত, তাহলে হয়তো সিরাজের এমন মর্মান্তিক পরিণতি হতো না। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের কার্দির মতো বিশ্বস্ত লোকের অপ্রতুলতার জন্যই সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে।