“উদ্দীপকের মুকিম সাহেব এবং নবাব সিরাজের করুণ পরিণতি একই সূত্রে প্রথিত।” উক্তিটি যথার্থ ।
1
• লোভী ও অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি আত্মস্বার্থে যেকোনো সময় বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। আর বিশ্বাসঘাতক কখনো কারও আপন হতে পারে না। সে সবসময় অন্যের ক্ষতি করে। এভাবে কাছের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতায় একজন দেশপ্রেমিক নেতার জীবনে নেমে আসে নির্মম পরিণতি। সামান্য স্বার্থের জন্য খুব কাছের মানুষের মাধ্যমেই তাদেরকে মৃত্যুবরণ করতে হয় ।
উদ্দীপকের মুকিম সাহেব রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ময়লার ভাগাড়ের পাশ থেকে একটি শিশুকে পরম যত্নে তুলে এনে তার নাম দেন আজমল। আর আজমলকে তিনি স্নেহ-ভালোবাসায় বড় করে তোলেন। অথচ সেই আজমলই তাকে সম্পত্তির জন্য নিজের হাতে হত্যা করে। মুকিম সাহেবের এমন করুণ পরিণতি যেন 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজের করুণ পরিণতিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। কেননা যেই নবার সারাটি জীবন দেশের জন্য কাজ করেছেন, দেশের মানুষের কষ্টে ব্যথিত হয়েছেন, সেই নবাবকে তাঁর কাছের মানুষের ষড়যন্ত্রে মৃত্যুবরণ করতে হয়, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক ।
• 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে তাঁর খুব কাছের অমাত্য মিরজাফর, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ প্রমুখ বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্রে পলাশির যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে বন্দি হতে হয়। আবার তার উপর নির্মমতা আরও বেড়ে যায়, যখন তিনি দেখেন মোহাম্মদি বেগ তাঁকে হত্যা করার জন্য এগিয়ে আসে। কেননা এই মোহাম্মদি বেগকে নবাবের পিতা পরম যত্নে, আদর-স্নেহে মানুষ করেন। আর সেই মোহাম্মদি বেগের হাতেই নবাবকে মৃত্যুবরণ করতে হয়, যা সত্যিই করুণ ও মর্মান্তিক। যা উদ্দীপকের মুকিম সাহেবের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।