উদ্দীপকের ট্র্যাজেডির নায়কের আত্মদ্বন্দ্বের পরিণতির মতোই 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজ চরিত্রের করুণ পরিণতি হয়েছে বলা যায়।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নায়ক নবাব সিরাজ আত্মদ্বন্দ্বের বেদনায় স্থির ছিলেন। তিনি তার অমাত্যবর্গের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি অনুমান করতে পেরেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে পারেননি। এদিকে তার খালা ঘসেটি বেগমের প্রাসাদ ষড়যন্ত্র তাকে আরও বেশি মর্মপীড়া দেয়। এই নিঃসীম দুঃখবোধ ও নিজের প্রতি অবিশ্বাস তাকে করুণ পরিণতি বরণ করতে বাধ্য করে। দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থেকেও তিনি সেনাপতিদের বিশ্বাস করেন এবং তার জীবনাবসনার ঘটে।
উদ্দীপকে ট্র্যাজেডির নায়ক সম্পর্কে বলা হয়েছে এ নায়ক নিঃসীম দুঃখ ভোগ ও নিদারুণ বেদনায় থাকেন। এ বেদনাবোধ ও দুঃখ তার প্রাণকে বিমথিত করে তোলে। ট্র্যাজেডিতে আত্মদ্বন্দ্বে পরাভূত মানবাত্মার সকরুণ বেদনা ও সুকঠোর পীড়নের চিত্র উদ্ঘাটিত হয়। নায়কের মৃত্যু অনিবার্য না হলেও তার পরাজিত জীবন মৃত্যুর চেয়েও অধিকতর করুণ হয়। প্রতিকূল অবস্থার বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে শেষপর্যন্ত নায়ক মৃত্যুর কোলেও ঢলে পড়ে । তখন তার অনমনীয় শক্তিও নিঃশেষ হয়ে পড়ে থাকে ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নায়ক নবাব সিরাজ উদ্দীপকের ট্র্যাজেডির নায়কের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। তিনি অন্তর্দ্বন্দ্বে মারাত্মকভাবে আড়ষ্ট। তার চারপাশে কেবল অবিশ্বাসের দেয়াল। কাকে রেখে কাকে বিশ্বাস করবেন এই অন্তর্জালায় তার নিঃসীম দুঃখবোধ জাগ্রত থাকে। তিনি যেন নিজের কাছেই নিজে পরাজিত। যাদের তিনি বাংলার সেনাপতি করে আশ্বস্ত হতে চেয়েছেন, তারাই তার জন্য বড়ো দেয়াল তৈরি করেছে। ব্রিটিশ বেনিয়াদের সাথে যোগসাজশে সেই মিরজাফর ও তার সহযোগীরা চায় নবাবের পরাজয়। এজন্য তিনি যুদ্ধের আগেই মনস্তাত্ত্বিক পরাজয় বরণ করেছেন। এত ব্যথা নবাব সহ্য করে লড়াই চালাবেন তা ভাবাটাও দুষ্কর। ঘরের ও বাইরের শত্রুর যৌথ চক্রান্ত তাকে অস্থির করে তোলে । ফলে তিনি অনমনীয় হতে পারেন না, আবার না পারেন নমনীয় হতে । এমন প্রতিকূল পরিবেশে লড়াই করতে গিয়ে তিনি পরাজিত ও নিহত হন। উদ্দীপকে ট্র্যাজেডি নায়কের এমন করুণ পরিণতির কথাই বলা হয়েছে।