'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাবের বিরুদ্ধে ঘষেটি বেগম, মিরজাফর, ন্য জগৎশেঠ ইংরেজদের সাথে নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছে যা উদ্দীপকে বর্ণিত 'দেশ ছেয়ে যায় দালালের আলখাল্লায়' কথাটির ক্ষেত্রে সত্য।
সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে তারই খালা ঘসেটি বেগম। সে মিরজাফর ও ইংরেজদের সাথে নিয়ে সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। এছাড়া উমিচাঁদ, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ এরাও ঘসেটি বেগমের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। দেশীয় অপশক্তিই নিজেদের স্বার্থের জন্য স্বাধীনতাকে পণ্ড করতে পিছপা হয়নি।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'দেশ ছেয়ে যায় দালালদের আলখাল্লায়' বলতে মূলত ১৯৭১ সালের এদেশীয় দালাল অর্থাৎ রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর কথা বলা হয়েছে। এই বেইমান ও বিশ্বাসঘাতকেরা নিজ দেশে থেকেও ব্যক্তিগত স্বার্থের আশায় নিজের দেশের স্বাধীনতা বিকিয়ে দিতে প্রস্তুত। উদ্দীপকে বর্ণিত রাজাকার, আলবদর যারা এ দেশের নাগরিক হয়ে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করেছে। উদ্দীপকের কবি এটাকে বলেছেন যে, দালালদের দৌরাত্ম্যে দেশ ছেয়ে গেছে। অর্থাৎ এরা এ দেশের নাগরিক হয়ে এ দেশবাসীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আবার 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের উর্মিচাঁদ, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ এরা নবাবের পক্ষে থেকেও নেই। নিজ খালা ঘসেটি বেগম ক্ষমতার স্বার্থে অন্ধ হয়ে দেশ বিকিয়ে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সুতরাং দেখা যায় 'দেশ ছেয়ে যায় না দালালদের আলখাল্লায়' কথাটি সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ক্ষেত্রেও নির্মম ২ সত্য হয়ে দেখা দিয়েছে।