যৌক্তিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়ায় গোবিন্দলাল সফল হয় এবং সিদ্ধান্ত ও কর্মতৎপরতায় ভুল হওয়ায় সিরাজউদ্দৌলার পতন হয় বিধায় আলোচ্য উক্তিটি যথার্থ ।
আলোচ্য নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে বেশ কিছু অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায় । তিনি সহজেই তাঁর অমাত্যবর্গকে বিশ্বাস করেছিলেন। মিরজাফর ও তার দোসরদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আভাস পেলেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেননি তিনি, উলটা মিরজাফরের উপরই পলাশির যুদ্ধের দায়িত্বভার অর্পণ করেছেন। ফলে চরম মূল্য দিতে হয়েছে তাঁকে। মিরজাফর ও তার সহযোগীদের বিশ্বাসঘাতকতায় বাংলার স্বাধীনতা বিসর্জন দিতে বাধ্য হয়েছেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা । উদ্দীপকের গোবিন্দলাল পিতার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে জমিদারির দায়িত্ব পান। সে ছিল বয়সে নবীন এবং উদার প্রকৃতির মানুষ। তাই সুযোগে তার কাকা শিশির গোবিন্দলালকে ক্ষমতাচ্যুত করে জমিদারিত্ব নিজের দখলে নিতে চায়। আর তাই সে গোবিন্দলালের অমাত্যদের সাথে নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। কিন্তু গোবিন্দলাল বিষয়টি আঁচ করতে পেরে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে ষড়যন্ত্র নসাৎ করে দেন ।
উদ্দীপকের গোবিন্দলাল যথেষ্ট বিচক্ষণ এবং দূরদর্শী মানুষ ছিলেন। তিনি বয়সে তরুণ এবং সরল প্রকৃতির মানুষ হলেও শাসক হিসেবে ছিলেন যথেষ্ট চৌকস এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারদর্শী, যা আলোচ্য নাটকের সিরাজউদ্দৌলার মধ্যে অনুপস্থিত ছিল। মূলত, নবাবের পরিণতির জন্য তাঁর অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি যদি মিরজাফর ও তার অনুগতদের উপর নির্ভর না করতেন তাহলে তাঁকে করুণ পরিণতি বরণ করতে হতো না। তাই বলা যায়, সিরাজউদ্দৌলা এবং গোবিন্দলালের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কর্মতৎপরতা নাটক ও উদ্দীপকের শেষ পরিণতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছে।