"উদ্দীপকের বঙ্গবন্ধু ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজ উভয় চরিত্রে দেশপ্রেমের প্রতিফলন ঘটেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
দেশকে যাঁরা ভালোবাসেন তাঁরা দেশপ্রেমিক। আপাত দৃষ্টিতে সবাই নিজ ভূখণ্ডকে ভালোবাসে। কিন্তু এমন কিছু ব্যক্তি আছেন যাঁরা ভালোবাসার দৃষ্টান্তস্বরূপ নিজেদের জীবন পর্যন্ত ত্যাগ করেন। এঁরাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক। জাতি তাঁদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেশপ্রেমের মূর্তপ্রতীক হলেন সিরাজ। তিনি ছিলেন বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার অধিপতি। তিনি তাঁর ভূখণ্ড থেকে ইংরেজদের হটানোর জন্য রাজ্যের সবাইকে নিয়ে সভা করেন। তিনি জানেন অনেকেই বিশ্বাসঘাতক, তার পরেও দেশের প্রশ্নে সবাই এক থাকবে এমন বিশ্বাস তাঁর মধ্যে ছিল। তিনি দেশ নিয়ে এত বেশি চিন্তিত ছিলেন যে প্রাণপ্রিয় স্ত্রীকেও সময় দিতে পারেননি। নিজের সব আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে তিনি সর্বদা দেশের কথা ভেবেছেন। উদ্দীপকের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যেও অনুরূপ বিষয় দেখা যায়। পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলন করার কারণে তাঁকে জীবনের অনেক সময় কারাগারে থাকতে হয়েছে। তারপরেও তিনি দেশকে ছাড়েননি।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হয়েও দেশপ্রেমিক নবাব নতুন করে সৈন্য সংগ্রহ করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। দেশকে পরাধীনতার দিকে ঠেলে দিতে চাননি। উদ্দীপকের বঙ্গন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও দেশের জন্যই সর্বদা ভেবেছেন। দেশের প্রশ্নে দুজনেই ছিলেন আপসহীন। এই বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপকের বঙ্গবন্ধু ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজ উভয় চরিত্রে দেশপ্রেমের প্রতিফলন ঘটেছে।