"উদ্দীপকের মূলভাব আর 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূলভাব যেন একসূত্রে গাঁথা।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মাতৃভূমিতে জন্ম নিয়ে আমরা সেখানকার অন্ন-জলে বেড়ে উঠি। সংগত কারণেই মাতৃভূমির সঙ্গে আমাদের একধরনের আত্মিক বন্ধন তৈরি হয়। আর তাই যে যেখানেই থাকি না কেন, মাতৃভূমিকে আমরা, সবাই হৃদয় দিয়ে ভালোবাসি। প্রকৃতপক্ষে মাতৃভূমি যেন মায়েরই নামান্তর।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি ব্যক্তির জীবনে মাতৃভূমির গুরুত্বের দিকটিকে তুলে ধরেছেন। কবি মনে করেন, মাতৃভূমি যেন মায়ের মতোই আমাদের স্নেহাদরে আগলে রেখেছে। তাই মায়ের কোলে শুয়ে সন্তান যেমন মাকে ভুলতে পারে না, তেমনই শুভবোধসম্পন্ন কোনো ব্যক্তিও দেশমাতৃকাকে' বিস্মৃত হতে পারে না। বস্তুত মাতৃভূমির স্নেহচ্ছায়ার চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই নেই। উদ্দীপকের দেশপ্রেমের এই চেতনা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং তাঁর অনুগত সেনাপতিদের দেশপ্রেমের চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাঁরা দেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। কেবল দেশের স্বার্থে নবাব সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইংরেজদের মোকাবিলা করার আহ্বান করেছেন।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল সুর হলো দেশপ্রেম। এই নাটকের পুরোভাগজুড়ে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ও ইংরেজদের আগ্রাসনের বিপরীতে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও তাঁর অনুগত সেনাদের দেশাত্মবোধই প্রবল হয়ে উঠেছে। আর তাই পরাজয় নিশ্চিত জেনেও দেশের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে পলাশির যুদ্ধে তারা প্রাণপণ যুদ্ধ করে গেছেন। একইভাবে উদ্দীপকের কবিতাংশের মূল উপজীব্য হলো দেশপ্রেম। সেখানেও কবি ব্যক্তির জীবনে দেশপ্রেমের গুরুত্বকেই তুলে ধরেছেন। এই দিক বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।