"উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বিষয়বস্তুতে পার্থক্য থাকলেও একই ধারায় প্রবাহিত।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রতিটি মানুষের জীবন ভিন্ন ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হয়। এক্ষেত্রে অবস্থানগত পার্থক্য থাকলেও কখনো কখনো পরিণতিতে সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেশপ্রেমিক নবাব সিরাজউদ্দৌলার নিকট- আত্মীয় ও রাজ-অমাত্যদের দ্বারা প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের শিকার হন। এরই ফলস্বরূপ তিনি পলাশি যুদ্ধে পরাজিত, বন্দি ও নির্মমতার শিকার হন।
উদ্দীপকেও অনুরূপ এক পরিণতির কথা বলা হয়েছে। এখানে আরিফের জীবনের কাহিনি বিবৃত হয়েছে। তার প্রথম জীবনের সঙ্গে শেষ জীবনের পরিণতিতে বেশ পার্থক্য দেখা যায়। নিঃসন্তান বিপত্নীক আসাদ সাহেবের বিশাল সংসারের দায়িত্ব পাওয়ার পর সে কর্তব্যপরায়ণ হয়ে ওঠে। তার ভাগ্যে বিপর্যয় নেমে আসে এবং সে পরিচিতদের হাতে খুন হয়।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও সিরাজের জীবনের ট্র্যাজেডি ফুটে উঠেছে। সিংহাসনে আরোহণের পর নবাব সিরাজ তাঁর পূর্বজীবনের আমোদ- প্রমোদ থেকে সরে এসে কর্তব্যপরায়ণ হয়ে উঠেছিলেন। দেশরক্ষার ব্রত নিয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। নিকট আত্মীয় ও অমাত্যবর্গ তাঁর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় এবং পলাশির যুদ্ধে তিনি পরাজিত হন। এরপর বন্দি অবস্থায় পরিচিতরাই তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বিষয়বস্তুতে পার্থক্য থাকলেও আরিফ ও সিরাজউদ্দৌলার জীবন এবং পরিণতি একই ধারায় প্রবাহিত। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।