"উদ্দীপকে নির্দেশিত দেশপ্রেম ও সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেম অভিন্ন হলেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই নির্মমতার দিকে ঠেলে দিয়েছে"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাংলার ওপর বিদেশি বেনিয়াদের লোলুপদৃষ্টি বরাবরই ছিল। তারা এ দেশকে শোষণ করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। এ দেশবাসীর ওপর শোষণ চালিয়েছে। কিন্তু বাঙালিরা তা মেনে নেয়নি। তবে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বাঙালিকে নির্মম পরিণতি দিয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজরা নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে জেনে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের ফোট উইলিয়াম দুর্গ আক্রমণ করেন। এই আক্রমণে ইংরেজরা পরাজিত এবং গভর্নর রজার ড্রেক, ক্যাপ্টেন ক্লেটনসহ অনেক ইংরেজ পালিয়ে যায়। নবাবকে না জানিয়ে তারা দুর্গ সংস্কার করেছে বলেও নবাব তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের এ বিষয়ের সঙ্গে উদ্দীপকের বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে বিদেশি বেনিয়াদের অত্যাচারে বাঙালিদের অতিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পরিণামে দেশপ্রেমী বাঙালিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়েছে। তাদের রক্তে তৃপ্ত হতে চেয়েছে। অর্থাৎ প্রতিশোধ গ্রহণ করতে চেয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ইংরেজদের দৌরাত্ম্য ও ঔদ্ধত্যের পরিচয় পাওয়া যায়। তাদের এই কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদও করতে দেখা যায় বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে দেশপ্রেমিক নবাব সিরাজ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ী হতে পারেননি। নিকটাত্মীয় ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে তিনি নির্মম পরিস্থিতির শিকার হন। শুধু তাই নয়, নির্মম পরিণতি নেমে এসেছে তার জীবনেও। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।