"উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলার জয় সম্ভব হয়নি মূলত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের বিচক্ষণতার অভাবে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
যিনি একটি জাতির নেতৃত্ব দেবেন তাকে হতে হয় অত্যন্ত, বিচক্ষণ এবং দূরদর্শী। কেননা তার চারপাশে ষড়যন্ত্রকারীরা ওত পেতে থাকে। তার একটি ভুলু সিদ্ধান্তে পুরো জাতির স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হতে পারে।
উদ্দীপকে পবিত্র বাংলাদেশ থেকে অত্যাচারী, নিপীড়নকারী দস্যু- ডাকাতদের তাড়িয়ে দিয়ে এ দেশের জয় ছিনিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলার জয় সম্ভব হয়নি। এর কারণ হিসেবে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিচক্ষণতার অভাবকে অনেকাংশেই দায়ী করা যায়। নাটকে নবাব সিরাজ বারবার অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বারবার ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করার পরও তিনি মিরজাফর, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভদের প্রতি আস্থা রেখেছেন। তাদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে তিনি পলাশির যুদ্ধে নির্মমভাবে পরাজিত হয়েছেন।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে সিরাজউদ্দৌলা পলাশির যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সময় প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব দেন বিশ্বাসঘাতক মিরজাফরকে। আবার জগৎশেঠ, রায়দুর্লভদেরকেও তিনি বিশ্বাস করেছেন। এর ফলস্বরূপ মিরজাফর পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি। ফলে অল্প সেনা নিয়ে ইংরেজ বণিকরা যুদ্ধে জয়লাভ করে এ দেশের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়। এ দিক বিচারে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।