'উদ্দীপকের চন্দ্রগুপ্তের মধ্যে মিরজাফরের উচ্চাকাঙ্খা থাকলেও রবার্ট ক্লাইভের ধূর্ততাই বেশি।'—মন্তব্যটি যথার্থ।
বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা। তিনি বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার একমাত্র অধিপতি ছিলেন। কিন্তু তাঁর সম্রাজ্যের লর্ড সেনাপতি মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাবের করুণ পরাজয় কাতি হয়। ইংরেজ ও বাংলার নবাবের মধ্যে পলাশি প্রান্তরে যুদ্ধ হয়। সেই হরের যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন মিরজাফর, কিন্তু মিরজাফর ইংরেজদের গঠিত সাথে গোপন চুক্তি করেন। ফলে যুদ্ধের সময় মিরজাফর ইংরেজদের এই বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে নিষ্ক্রিয় থাকেন। এতে নবাবের পরাজয় হয়।
অন্যদিকে রবার্ট ক্লাইভ ছিল অত্যন্ত অর্থলোলুপ ছিলেন এবং নিজ ও স্বদেশের স্বার্থসিদ্ধির ক্ষেত্রে তাঁর কোন সততাবোধ, বিচারবোধ ও নীতিবোধ ছিল না। যেমন : নবাবের নিকট থেকে উৎকোচ গ্রহণ, উমিচাদের সাথে জাল-সন্ধি স্বাক্ষর, দস্তক ব্যবহারে বাংলার সম্পদ অপহরণ এবং জনসাধারণের উপর অত্যাচার-উৎপীড়ন প্রভৃতি কাজগুলো তাঁর চরিত্রে কলঙ্ক এঁকে দিয়েছে।
উদ্দীপকের চন্দ্রগুপ্ত নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে গ্রিক শিবিরে আলেকজান্ডারের সাথে সাক্ষাৎ করে নন্দবংশের উৎখাতের জন্য তার সাহায্য কামনা করে। আলেকজান্ডার চন্দ্রগুপ্তের ধৃষ্টতায় রুষ্ট হয়ে তার প্রাণদণ্ড দিলেও সে পালিয়ে আত্মরক্ষা করে। পরে বিচক্ষণ কূটনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদ চাণক্যের পরামর্শে নন্দবংশ ধ্বংসপূর্বক সিংহাসনে আরোহণ করে চন্দ্রগুপ্ত।
এক্ষেত্রে চন্দ্রগুপ্ত গোপনে আলেকজান্ডারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও সে গোপনে চাণক্যের পরামর্শে নন্দ বংশ ধ্বংস করে সিংহাসন আরোহন করে। এতে তার মধ্যে মীরজাফরিয় শঠতা থাকলেও রবার্ট ক্লাইভের ধূর্ততাই ছিল বেশি।
'উদ্দীপকের চন্দ্রগুপ্তের মধ্যে মিরজাফরের উচ্চাকাঙ্খা থাকলেও রবার্ট ক্লাইভের ধূর্ততাই বেশি।'-মন্তব্যটি যথার্থ হয়েছে।