উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আলোকে ক্ষমতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের স্বরূপ বিশ্লেষণ করা যায়।
আমাদের সমাজে কিছু অসৎ ব্যক্তি আছে যাদের কাছে আপন স্বার্থের চেয়ে বড় আর কিছুই নেই। অর্থ ও ক্ষমতার মোহে পড়ে তারা হিতাহিত জ্ঞান ও মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলে। আত্মীয়, পরিজন, রক্তের সম্পর্ক, বিশ্বাস সবকিছু ভুলে গিয়ে তারা যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা ও স্বার্থ হাসিল করতে চায়।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে শুরু থেকে নবাব সিরাজের প্রধান অমাত্যবর্গ ও নিকট আত্মীয়স্বজনরা ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নবাবকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এর প্রধান কারণ নবাবকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল। নবাবের খালা ঘসেটি বেগমের ক্ষমতার লোভ নবাব সিরাজের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার অন্যতম কারণ। সেই সঙ্গে মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা নবাবকে পলাশির যুদ্ধে পরাজিত করে করুণ পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়। এ ধরনের করুণ পরিণতিরই শিকার হয়েছেন উদ্দীপকের আব্রাহাম লিংকন, মহাত্মা গান্ধী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ইন্দিরা গান্ধী প্রমুখ মহান ব্যক্তিবর্গ। মিরজাফরের নবাব হওয়ার লোভ তাকে ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে শপথের কথা ম্লান করে দিয়েছিল। মিরজাফর নবাব হলে ঘসেটি বেগম ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ যতটা পাবেন তার চেয়ে বহুগুণে স্বার্থ জড়িত ছিল ইংরেজদের। ক্লাইভের হাত ধরে মিরজাফর নবাবের আসনে বসেছিলেন বাংলার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে নয়, ইংরেজদের ভাগ্য উন্নয়নে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেশপ্রেমিক নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশির যুদ্ধে পরাজয়ের পরও চেষ্টা করেছিলেন নতুন করে সেনা সংগ্রহ করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে আবার যুদ্ধ করে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা করতে। তখনও তাঁর নিকট আত্মীয়রা সাহায্যের কথা বলে তাকে ছেড়ে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে গেছে। বরং স্বার্থের দ্বন্দ্বে নবাব সিরাজকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। উদ্দীপকে যে ধরনের বিদেশি চক্রান্তের কথা বলা হয়েছে তা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও প্রতিফলিত হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই মহান ব্যক্তিদের করুণ পরিণতির মূলে ক্ষমতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বই মুখ্য হয়ে উঠেছে।