"অর্থ, ক্ষমতা ও স্বার্থ'-এ তিনই 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ষড়যন্ত্র, হত্যা ও হঠকারিতার জনক।
এই পৃথিবীতে সব মানুষেরই কাম্য বস্তু অর্থ-সম্পদ। কেউ তা পরিশ্রম করে অর্জন করে, আবার কেউ অসৎ উপায়ে অল্প সময়ে বিদ পরিশ্রমে অর্জন করে। স্বার্থের দিকে তাকিয়ে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। পৃথিবীতে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যেখানে দেখা যায় স্বার্থের কারণে মানুষ রক্তের সম্পর্কের আপনজনদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের হত্যা করেছে। যা অত্যন্ত ঘৃণিত ও নিন্দিত কাজ।
স্বার্থপর মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। অর্থ-সম্পদ ও ক্ষমতার লোভ তাদের অন্ধ করে দেয়। ফলে তারা একের পর এব বিশ্বাসঘাতকতার দিক অন্যায় করে যায়। এমনকি আপন-পর ভেদাভেদও ভুলে যায়।
সিরাজউদ্দৌলা নাটকে দেখা যায় নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে তাঁর আত্মীয়-পরিজন এবং অমাত্যবর্গ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কীভাবে নবাবকে সিংহাসনচ্যুত করা যায় এবং নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করা যায় সেই ভাবনা নিয়ে সবাই একাট্টা। তারা প্রত্যেকে দেশরক্ষার শপথ করলেও নবাবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এই সুযোগ গ্রহণ করে ইংরেজরা। তারা নবাবকে আক্রমণ করার সুযোগ খোঁজে। এবং পরবর্তীতে তারই আপন মানুষ মোহাম্মদী বেগের হাতে তার মৃত্যু ঘটে।
সুতরাং বলা যায় অর্থ সম্পদ লোভ লালসা বিশ্বাসঘাতকতা এবং আপন মানুষের প্রতি ষড়যন্ত্রই ছিল একমাত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের কারণ।