উদ্দীপকে নীলকরদের অত্যাচারের সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কে বর্ণিত লবণচাষির ওপর ইংরেজদের অত্যাচারের সাদৃশ্য রয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা তার প্রজাসাধারণের ইংরেজদের দ্বারা বীভৎসভাবে অত্যাচারিত হওয়া দেখে ক্ষোভে-দুঃখে বলেছিলেন, 'আমার নালিশ আজ আমার বিরুদ্ধে', নবাবের সামনে উপস্থিত হয়ে এক লবণচাষি বলেছিলেন, 'লবণ বিক্রি করিনি বলে কুঠির সাহেবদের লোকজন আমার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে।' ষন্ডা পাঁচজনে মিলে তার পোয়াতি বউটাকে নিগৃহীত করেছে তার চোখের সামনেই। চোখ বুজলে তারা তার নখের ভেতরে খেজুরকাঁটা ফুটিয়েছে, তার বউকে তারা খুন করে ফেলে। এসব চাষির উৎপাদিত লবণের ইজারাদার কুঠিয়াল ইংরেজ। তিন আনা দরে লবণ কিনে তারা সেখানেই দুই টাকা আড়াই টাকা মণ দরে বিক্রি করে।
উদ্দীপকে সাধারণ মানুষের ওপর ইংরেজদের অত্যাচারের কথা বলা হয়েছে। গোলকচন্দ্র বসু ও সাধুচরণের আলাপচারিতায় জানা যায়, ইংরেজরা সাধারণ চাষিদের নীলচাষে বাধ্য করত। নীলচাষে অস্বীকৃতি জানালে জেল-জুলুম, নিরীহ বউ-ঝির সম্ভ্রমহানি করত। গোলক বসুর পুত্র নবীনমাধব এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় ও নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে মামলা করে। পরবর্তী সময়ে সেই নীলকরদের লাঠিয়াল বাহিনীর নির্মম প্রহারে নবীনমাধবের মৃত্যু হয়। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কে লবণচাষিদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে ইংরেজরা, একইভাবে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে নীলকর বাবুরা। তাই উদ্দীপকের ঘটনা আর লবণচাষিদের ওপর অত্যাচারের বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।