বিশ্বাসঘাতকতাই রাবণ ও সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মূল কারণ।
সিরাজউদ্দৌলা নাটকে সিরাজ সিংহাসন গ্রহণ করার পর থেকে তাঁর কাছের মানুষসহ প্রাসাদের অমাত্যরা ইংরেজদের সাথে মিলে ষড়যন্ত্র শুরু করে। পলাশির যুদ্ধের সময় মিরজাফর প্রধান সেনাপতি ছিলেন এবং নবাবের হয়ে যুদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কোরান ছুঁয়ে। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে তিনি নবাবের হয়ে যুদ্ধ করেননি। বরং পলাশির যুদ্ধে নবাবের পতনকে ত্বরান্বিত করার জন্য দেশপ্রেমিক সৈনিকদের যুদ্ধ করার সুযোগও দেননি। এতে পতন হয় নবাব সিরাজউদ্দৌলৈার। তাই বলা যায়, তিনি যুদ্ধে পরাজিত হননি, বরং পরাজিত হয়েছেন ষড়যন্ত্রের কাছে। অপরদিকে উদ্দীপকে রাম-রাবণের যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতক, দেশদ্রোহী, অকৃতজ্ঞ ছিল বিভীষণ। অপরদিকে বীরবাহু, কুম্ভকর্ণ ও মেঘনাদ ছিল দেশ প্রেমিক। নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতার জন্য মেঘনাদ যুদ্ধ করার সুযোগ পাননি। ফলে তিনি পরাজিত হন। এ কারণে আজও বাঙালি সমাজে প্রচলিত আছে- ঘরের শত্রু বিভীষণ'। অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং বিভীষণের দেশদ্রোহীতার কাছে মেঘনাদ পরাজিত হয়েছিলেন।
তাই, সার্বিক বিশ্লেষণের প্রেক্ষিতে বলা যায়, বিশ্বাসঘাতকতাই রাবণ ও সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মূল কারণ।