বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ জেগে উঠলেও সিরাজউদ্দৌলার প্রজারা জেগে না ওঠায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন প্রকৃত দেশপ্রেমী। কিন্তু তাঁর প্রজারা ছিল অসচেতন ও ভীরু প্রকৃতির। কেউ বা ছিল স্বার্থপর, কেউ কেউ শক্তি-সামর্থ্যহীন । সমরকৌশল না জানার দোহাই দিয়ে তারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে থাকতে চেয়েছিল। তাদের দৃঢ় মনোবল ছিল না বলে আশাও রাখতে পারেনি।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল । ১৯৭১ সালে এদেশের সর্বস্তরের মানুষ সম্মিলিতভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। তাই পাকিস্তানিদের হীন প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। শক্তিশালী হানাদার বাহিনীর আক্রমণে বাংলার লাখো মানুষকে আত্মত্যাগ করতে হয়েছে । এ ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ ।
বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ দেশাত্মবোধের চেতনায় জেগে উঠেছিল বলেই ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে। ১৭৫৭ সালের পলাশির যুদ্ধে এদেশীয় দালালদের মতোই ঘৃণ্য ভূমিকা পালন করেছিল মিরজাফরেরা। কিন্তু তাদের প্রতিরোধে সিরাজউদ্দৌলার প্রজারা জেগে ওঠেনি। তারা প্রাণের ভয়ে পিছু হটেছিল। তারা সম্মিলিতিভাবে রুখে দাঁড়ালে হয়তো তখন বাংলার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হতো না। তাই উদ্দীপক ও আলোচ্য নাটকের প্রেক্ষিতে প্রশ্নোক্ত উক্তিটিকে যথার্থ বলা যায় ।