উদ্দীপকের 'দেশের ভাগ্য ওরা করে বিক্রয়' পঙ্ক্তিতে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মর্মার্থই প্রতিধ্বনিত হয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে চিত্রিত বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন সাহসী এক দেশপ্রেমী। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি বাংলার স্বাধীনতা বজায় রাখার সংকল্পে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। কিন্তু তাঁর কতিপয় অমাত্য ও নিকটজনেরা ছিল বিশ্বাসঘাতক। তারা নিজ নিজ স্বার্থ উদ্ধার করতে গিয়ে নামমাত্র মূল্যে বিকিয়ে দিয়েছিল ভিনদেশি বেনিয়াদের কাছে।
উদ্দীপকে প্রকারান্তরে বিশ্বাসঘাতক মিরজাফর, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভদের কথাই বলা হয়েছে। তারা নবাব সিরাজউদ্দৌলার অমাত্য হয়েও ক্ষমতা ও অর্থের লোভে দেশকে বিক্রি করে দিয়েছিল। তারা স্বার্থের প্রয়োজনে দেশদ্রোহের আশ্রয় নিয়েছিল, ঠিক যেমনটি উদ্দীপকে বলা হয়েছে। যারা দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে তারা দেশের কেউ হতে পারে না বলেই উদ্দীপকের কবি অভিমত প্রকাশ করেছেন।
উদ্দীপকের শেষ চরণে স্বার্থান্ধ দেশদ্রোহীদের কথাই উচ্চারিত হয়েছে। তারা বাঙালি হলেও এদেশের নয় বলে কবি দাবি করেছেন। “সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও আমরা দেখি, পলাশির যুদ্ধে বিপুল সমরসামর্থা থাকা সত্ত্বেও নবাবের পরাজয় ঘটে। কেননা, তাঁর নিজস্ব সেনাদল যুদ্ধে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বিশ্বাসঘাতক সেনাপতি ও অমাত্যবর্গ এভাবেই বাংলার স্বাধীনতা বিসর্জন দেয় । উদ্দীপকটি প্রকারান্তরে এসব স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের কথাই বলেছে এবং দাবি করেছে যে, 'দেশের ভাগ্য ওরা করে বিক্রয়।'