“উদ্দীপক ও “সিরাজউদ্দৌলা' নাটক উভয় ক্ষেত্রেই অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিশ্বস্ত ও দুঃসাহসী যোদ্ধার প্রতিবাদী সংগ্রাম উজ্জ্বল হয়ে ফুটে উঠেছে।” – মন্তব্যটি যথার্থ ।
মানবতাবোধ ও দেশপ্রেম মানুষকে সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উন্নীত করে। তারা অন্যায়ের প্রতিরোধে, মানবতার সেবায়, বিশ্বস্ততায় ও দেশপ্রেমে জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করতে পারে। উদ্দীপকের তোরাপ ও নাটকের মোহনলাল এমন বিশ্বস্ত ও দুঃসাহসী সৈনিক।
উদ্দীপকে তোরাপ ইংরেজ নীলকরদের অন্যায়-অত্যাচারের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। পরোপকারী মানসিকতায় সে এ দেশের অসহায় কৃষকদের ওপর ইংরেজ নীলকরদের অন্যায় আচরণ ও নানা উৎপীড়নের মোকাবিলায় দুঃসাহসী সৈনিকের প্রতিনিধিত্ব করেছে। অন্যদিকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিশ্বাসঘাতক সেনাবাহিনীর মোকাবিলায় মানবতাবাদী, দেশপ্রেমিক, দুঃসাহসী মোহনলাল বিশ্বস্ত সিরাজবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেছে। দেশরক্ষায় ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবনরক্ষায় মোহনলাল বিশ্বস্ত সৈনিকের প্রতিনিধি হয়ে বিশ্বাসঘাতক সেনাবাহিনীর মোকাবিলায় লড়াই করে নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছে।
উদ্দীপকে তোরাপ সমগ্র কৃষক সমাজের মুক্তির জন্য ইংরেজদের বিরুদ্ধে নবীন মাধবকে সহযোগিতা করেছে। আর নাটকের মোহনলাল মানবতা ও বিশ্বস্ততায় নবাবের বিশ্বাসঘাতক সেনাদের মোকাবিলা করে সিরাজউদ্দৌলাকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। ঘটনার এমন বাস্তবতায় 'তোরাপ ও মোহনলাল উভয়ই দুঃসাহসী যোদ্ধা। সুতরাং, একজন প্রতিনিধিত্ব করেছে সমগ্র কৃষক সমাজের, অন্যজন সিরাজবাহিনীর।' তাই বলা যায়, আলোচ্য উক্তিটি যথার্থ ।