অন্ধবিশ্বাসের কারণেই উদ্দীপকের জবেদা খাতুন এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাবকে করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়, যা প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ করে তুলেছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন সরল মনের অধিকারী। তিনি দরবারের অমাত্যবর্গকে প্রচণ্ড বিশ্বাস করেছেন। মিরজাফর ও তার সহযোগীরা বারবার ভুল করা সত্ত্বেও নবাব তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং সবাইকে নিজেদের পদে বহাল রেখেছেন। নবাবের এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছে স্বার্থলোভী মিরজাফর ও তার সহযোগীরা। তারা গোপনে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ত্বরান্বিত করেছে।
উদ্দীপকের জবেদা খাতুনের অন্ধবিশ্বাসই তার ক্ষতির কারণ হয়েছে। তিনি মোখলেছুর রহমানকে বিশ্বাস করে জমিজমা দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু মোখলেছুর রহমান তার সেই বিশ্বাসের কোনো মূল্য দেয়নি বরং সুযোগ বুঝে জবেদা খাতুনের সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। অথচ জবেদা খাতুন যদি সহজেই মোখলেছুরের প্রতি বিশ্বাস না করতেন, তাহলে তার এই ক্ষতি হতো না।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব এবং উদ্দীপকের জবেদা খাতুন উভয়ই করুণ পরিণতির শিকার হয়েছেন। তারা সহজেই মানুষকে বিশ্বাস করেছেন। কোনোকিছু না ভেবেই তারা দায়িত্ব দিয়েছেন সম্পূর্ণ বিশ্বাসের উপর ভর করে। কিন্তু তাদের সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেনি বিশ্বাসঘাতকের দল । অন্ধবিশ্বাসের কারণে তাদের পথে বসতে হয়েছে। তাই বলা যায়, “বিশ্বাস করা ভালো, কিন্তু অন্ধবিশ্বাস মানুষকে কখনো কখনো পথে বসিয়ে দেয়” –প্রশ্নোক্ত এই মন্তব্যটি যথার্থ।