উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে বর্ণিত ইংরেজ আক্রমণের ইঙ্গিত বহন করলেও বাংলার স্বাধীনতা হারানোর মর্মন্তুদ কাহিনি ফুটিয়ে তুলতে পারেনি।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার অপরিসীম দেশপ্রেম এবং তার বিপরীতে ইংরেজদের চাতুর্য ও অমাত্যবর্গের বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি বর্ণিত হয়েছে। নবাব এ দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করলেও কিছু অমাত্যের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তা পারেননি। শকুনরূপী ইংরেজরা এ দেশের শাসনক্ষমতার লোভে ষড়যন্ত্র করে এবং সেই অমাত্যদের কাজে লাগায়। ফলে নবাবকে করুণ পরিণতি বরণ করতে হয় এবং বাংলার স্বাধীনতা হয় বিপন্ন ।
উদ্দীপকে শুধু এ দেশে শত্রুর আক্রমণের কথা বর্ণিত হয়েছে। শত্রুরা দানবীয় রূপে এ দেশে অত্যাচার চালায় । তাদের অত্যাচার থেকে কিছুই— কেউই রেহাই পায় না। ফসলের মাঠ তারা জ্বালিয়ে ছারখার করে দিয়েছে। মানুষের বসতভিটা পুড়িয়ে দিয়ে মানুষকে বাস্তুহারা করেছে তারা । তাদের এই নৃশংসতা বর্ণনা করাই উদ্দীপকে মূল উদ্দেশ্য ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল বিষয় নবাব সিরাজউদ্দৌলার করুণ পরিণতি এবং তাঁর অমাত্যদের বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দেওয়া। নাটকে উঠে এসেছে নবাব সিরাজউদ্দৌলার গভীর দেশপ্রেম, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, ইংরেজদের চাতুর্য এবং নবাবের সরলতা। উদ্দীপকে নাটকের এই সম্পূর্ণ বিষয় ফুটে ওঠেনি। সেখানে কেবল বহিরাগত শত্রুর আগ্রাসনের চিত্র ফুটে উঠেছে; দেশীয়দের ষড়যন্ত্র, নবাবের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও বিপন্ন স্বাধীনতার দিকটি স্থান পায়নি । তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাথে পরিপূর্ণ যোগসূত্র স্থাপন করতে পারেনি ।