উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সমগ্র চিত্রকে প্রকাশ করে না; এটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বেদনাবহ পরিণতির খণ্ডচিত্র মাত্র।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটি ১৭৫৭ সালের পলাশির যুদ্ধের পটভূমিতে রচিত। এ নাটকে কীভাবে সহযোগীদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন, তা বর্ণিত হয়েছে। পরাজিত নবাবকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় নৃশংসভাবে হত্যা করার কাহিনিও চিত্রিত হয়েছে এ নাটকে ।
উদ্দীপকের বৈলাম মল্লিক এক কপট ও বিশ্বাসঘাতক চরিত্র। সে বিষখালী নদীতে জেগে ওঠা ছৈলার চর দখল করার জন্য জমিদারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও নবাবের সাথে তাঁর অমাত্য ও আপনজনদের বিশ্বাসঘাতকতার চিত্র ফুটে উঠেছে'। নাটকটিতে মিরজাফর, ঘসেটি বেগম, জগৎশেঠদের ষড়যন্ত্র এবং ইংরেজদের সুযোগসন্ধানী মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। ফলে নবাবের মৃত্যু 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মুখ্য বিষয় নয়। নাটকটি বস্তুত একটি ঐতিহাসিক ঘটনার শৈল্পিক আখ্যান। কিন্তু উদ্দীপকের পটভূমি এত বিস্তৃত নয় । কাহিনিতে ঘটনাচিত্র খুব বেশি নয়। গ্রামীণ একজন মানুষ কীভাবে ষড়যন্ত্র করে চর দখল করে নিল, উদ্দীপকে তাই প্রধান বিবেচ্য। যদিও মিরজাফর ও বৈলাম মল্লিক চারিত্রিক দিক থেকে একই রকম ।
উপর্যুক্ত আলোচনায় আমরা দেখলাম, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে যেখানে একটা বিস্তৃত পটভূমি রয়েছে, সেখানে উদ্দীপকের কাহিনিতে তেমন বিস্তৃত বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বিশ্বাসঘাতকতা, স্বার্থপরতা ও কপটতার চিত্র থাকা সত্ত্বেও উদ্দীপকটি তাই 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের একটি খণ্ডিত দিককে উন্মোচন করে। সার্বিক দিক বিবেচনায় তাই 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটক ও উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, প্রশ্নে উল্লিখিত মন্তব্যটি যথার্থ ।