'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থের প্রয়োজনে বিশ্বাসঘাতকতার যে দিকটি প্রকাশিত হয়েছে, উদ্দীপকের আলোকে তা অত্যন্ত ঘৃণিত ও নিন্দিত বলে পরিগণিত।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে বিশ্বাসঘাতকতার নিকট দেশপ্রেমের পরাজয় ঘটেছে । নবাব সিরাজউদ্দৌলা দেশের জন্য ভাবলেও তাঁর অমাত্যবর্গের কিছু অংশ ছিল তাঁর বিপরীত। তারা আত্মস্বার্থ চরিতার্থের জন্য গোপনে ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়েছে। নবাব আপন ভেবে দায়িত্ব দিলেও তারা সেই বিশ্বাসের মূল্য দেয়নি। বরং নবাবকে কীভাবে সিংহাসনচ্যুত করা যায়, সেই পরিকল্পনাতেই সর্বদা ব্যতিব্যস্ত থেকেছে তারা। তাদের এ ধরনের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডই নবাব সিরাজউদ্দৌলার তথা বাংলার পতন ত্বরান্বিত করেছে।
উদ্দীপকে স্বার্থের কাছে সম্পর্ককে তুচ্ছ করে দেখানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে স্বার্থবাদী মানুষের কারণে পাশাপাশি থেকেও যেন কেউ কারো নয়। প্রয়োজনের সময় এসব মানুষকে পাশে পাওয়া যায় না। স্বার্থবাদী চেতনার কারণে প্রিয়জনও দূরে চলে যায়। ফলে রক্তের সম্পর্কের কাছেও মানুষের প্রত্যাশা অবহেলিতই থেকে যায় প্রতিনিয়ত । 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে স্বার্থবাদী চেতনার যে প্রতিফলন ঘটেছে, তা যেন উদ্দীপকেরই মূল বক্তব্যকে ধারণ করেছে। নাটকের মিরজাফর-ঘসেটি বেগমেরা যেন উদ্দীপকের প্রিয়জনদেরই প্রতিরূপ। তারা নিজেদের স্বার্থের জন্যই সর্বদা ব্যতিব্যস্ত । এরূপ মানসিকতা ইতিহাসে ঘৃণিত এবং নিন্দনীয় হিসেবেই পরিগণিত হবে সর্বকালে।