পলাশির যুদ্ধে নবাবের বিশাল সৈন্যবহর থাকার পরও ইংরেজ চাতুর্যের কাছে নবাবের পরাজয় ঘটায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ বলে প্রতীয়মান হয় ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে পলাশির প্রান্তরে নবাবের বিপুল সমরসামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নবাবকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। কেননা, নবাবের প্রধান সেনাপতি মিরজাফর ও তার অনুসারীরা নবাবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তারা ইংরেজদের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পড়ে নবাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল যুদ্ধের ময়দানে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল। ফলে ইংরেজরা সহজেই নবাবের বিরাট বাহিনীকে পরাজিত করতে পেরেছিল।
উদ্দীপকে লক্ষ্মণ সেনের বিরাট সৈন্যবাহিনী ছিল। তাদের সামনে বখতিয়ার খলজির সামান্য সতেরো জন সৈন্য টিকে থাকার কথা নয়। কিন্তু বখতিয়ার খলজি চাতুর্য, সাহস ও শৃঙ্খলা দিয়ে সেই বাহিনীকে পরাস্ত করেছে। লক্ষ্মণ সেনের বাহিনী যুদ্ধ না করে পালিয়ে গিয়েছে। প্রকৃতার্থে সেদিন বখতিয়ার খলজিকে যুদ্ধ করতে হয়নি, বরং যুদ্ধের অভিনয় করে সহজেই রাজ্য লাভ করেছে সে।
উদ্দীপকে যেমন লক্ষ্মণ সেনের বিরাট সৈন্যবাহিনী যুদ্ধ না করে সহজেই রাজ্য ছেড়ে দিয়েছে, তেমনি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও সেনাপতি মিরজাফর ও তার অনুসারীরা যুদ্ধ না করে শত্রুকে সহজেই জিতিয়ে দিয়েছে। ফলে মূলত সেদিন যুদ্ধ হয়নি, হয়েছে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা।' —এই উক্তিটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য ।