আশ্রিতের হাতে করুণ পরিণতি বরণের ক্ষেত্রে সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের ঘটনা এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘটনা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে রচিত হওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়েছে। অমাত্যবর্গের বিশ্বাসঘাতকতা এবং ষড়যন্ত্র নবাবের পতন ঘটাতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছিল। নবাব সভাসদদের যাকেই আপন মনে করেছিলেন তারাই তার ক্ষতি করেছিল। এমনকি নবাবের পরিবারে লালিত-পালিত মোহাম্মদি বেগ নবাবকে হত্যা করে অর্থের লোভে ।
উদ্দীপকে রফিক সাহেবকে নিজের আশ্রিত ও লালিত-পালিত মানুষের হাতে জীবন দিতে হয়েছে। অনাথ বালক সজলকে বিশ বছর লালনপালন করেও তার হাতেই জীবন দিতে হয়েছে রফিক সাহেবকে। সম্পদলোভী সজল রফিক সাহেবের সমস্ত সম্পত্তি হস্তগত করার জন্য নিচু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। সজলের এই কর্মকাণ্ডের সমর্থন করেছে কতিপয় হিংসুক মানুষ, যারা রফিক সাহেবের সম্পদের প্রতি ঈর্ষাকাতর ছিল।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাবকে যেমন ঘরের মানুষের হাতেই জীবন দিতে হয়েছে, তেমনি উদ্দীপকের রফিক সাহেবকেও ঘরের মানুষের হাতেই জীবন দিতে হয়েছে। তবে তাদের দুজনের জীবনদানের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন । নাটকের নবাবকে যেখানে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জীবন দিতে হয়েছে, সেখানে উদ্দীপকের রফিক সাহেবকে জীবন দিতে হয়েছে সম্পদলিপ্সু আশ্রিত মানুষের হাতে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।