উদ্দীপকের স্বাধীনতার আস্বাদন 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং তার দেশপ্রেমিক অমাত্যদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।
আলোচ্য নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক বীর । তিনি দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে গেছেন । ইংরেজদের আগ্রাসন থেকে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষায় তিনি বদ্ধপরিকর ছিলেন। কিন্তু মিরজাফর ও তার দোসরদের বিশ্বাসঘাতকতা নবাবকে পরাজিত হতে বাধ্য করেছিল । নবাবের দেশরক্ষার আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মিরমর্দান, মোহনলাল, নৌবে সিংয়ের মতো দেশপ্রেমিক অমাত্যবর্গ। মৃত্যুও তাদের স্বাধীনতার সংকল্প থেকে টলাতে পারেনি।
উদ্দীপকে স্বাধীনতার পরশ লাভের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, স্বাধীনতা এমন এক জিনিস, যার সংস্পর্শ মানুষকে মহান করে তোলে। এই স্বাধীনতার রসাস্বাদনের জন্য মানুষ জীবন পর্যন্ত দিতে পারে। এই স্বাধীনতা ভীরুর মনে সাহস জাগায়, শক্তিহীনকে শক্তিমান করে তোলে । স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় বলীয়ান হয়ে ভীরু মানুষ বুক ফুলিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে । স্বাধীনতার এই অদৃশ্য ক্ষমতাই বর্ণিত হয়েছে উদ্দীপকে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য নিজের জীবন দিতেও দ্বিধা করেনি নবাব ও তাঁর দেশপ্রেমিক অমাত্য'। তারা মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কথা জেনেও বীরদর্পে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে, তবু স্বাধীনতা হারাতে চায়নি তারা। স্বাধীনতার সংস্পর্শই দেশপ্রেমিক বীরদের এমন সাহসী করে তুলেছিল। উদ্দীপকে স্বাধীনতার এই বৈশিষ্ট্যই বর্ণিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত স্বাধীনতার আস্বাদন 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব ও তাঁর দেশপ্রেমিক যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।