• "উদ্দীপকটি নাটকের খণ্ডিত চেতনার প্রতীক"- উক্তিটি যথার্থ।
• স্বার্থান্ধ মানুষ নিজেদের স্বার্থে স্বদেশ ও স্বদেশের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। তারা লোভের বশবর্তী হয়ে আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন করে।
• 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে অল্প বয়সে সিরাজের নবাব হওয়াকে আলিবর্দির বড় মেয়ে ঘসেটি বেগম মেনে নিতে পারেননি। প্রধান রাজ-অমাত্যরাও নবাবকে সহজভাবে গ্রহণ করেননি। ফলে নিকটাত্মীয় এবং প্রধান রাজ-অমাত্যরা মিলে নবাবের বিরুদ্ধে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র শুরু করেন। নাট্যকার এই দিকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের শেষ পর্যন্ত সিরাজের করুণ পরিণতি পর্যন্ত দেখিয়েছেন। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের শুরুতেই সিরাজের বাহিনী কলকাতা আক্রমণ করে ইংরেজদের তাড়িয়েছে। কারণ তারা ব্যবসায়ের নাম করে অস্ত্র আমদানি, সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, লবণচাষিদের নির্যাতন ইত্যাদি কাজসহ শাসন ক্ষমতা লাভের ষড়যন্ত্র করেছিল। নাটকের এই দিকটি এবং তা থেকে উত্তরণের চেতনার দিকটি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
• 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে উদ্দীপকের দিকটি ছাড়াও নাট্যকার আরও কিছু বিষয় এখানে তুলে ধরেছেন। সেসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে নবাবকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র, দেশের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য নবাবের আহ্বান, ধর্মগ্রন্থ স্পর্শ করে নবাবের পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য রাজঅমাত্যদের শপথ গ্রহণ, ইংরেজদের সঙ্গে মিরজাফরদের হাত মিলানো, মোহাম্মদি বেগ কর্তৃক দশহাজার টাকার লোভে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নির্মমভাবে হত্যা ইত্যাদি। এসব বিষয় উদ্দীপকে নেই। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।