আত্মীয়-পরিজন ও প্রধান রাজ অমাত্যদের প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে প্রতিফলিত হওয়ার দিক থেকে “এভাবে ঘরের শত্রুর কাছে দেশপ্রেমের পরাজয় ঘটে”- উক্তিটি যথার্থ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা একজন দেশপ্রেমিক নাবব। তিনি এখানে দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অথচ নবাবের কিছু অর্থলিপ্স, ক্ষমতাপিপাসু আত্মীয় ও সভাসদ মিলে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। তারা অর্থ ও ক্ষমতার লোভে নবাবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। ফলে ইংরেজদের সঙ্গে পলাশির যুদ্ধে নবাবের পরাজয় ঘটে। নবাব বন্দি ও নির্মমভাবে নিহত হন।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিশ্বাস, ঔদার্য ও মানবিকতার সুযোগ নিয়ে মিরজাফর আলি খান নবাবের বিরোধিতা করে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নবাবের পরাজয়ের পক্ষে কাজ করেছে নিজে নবাব হওয়ার লোভে। মিরজাফরের সঙ্গে এক হয়ে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন নবাবের খালা ঘসেটি বেগম। ফলে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও দেশপ্রেমিক সেনাপতিদের মৃত্যুবরণ করতে হয়। অন্যদিকে উদ্দীপকের নবীন মাধব অত্যাচারী নীলকরদের কবল থেকে গ্রামের কৃষকদের রক্ষা করেন। অথচ গোপীনাথ নামক এক বাঙালি কর্মচারী বিপুল অর্থ আর উচ্চ পদমর্যাদার লোভে নবীন মাধবকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা রাজ-অমাত্যদের বিশ্বাসঘাতকতায় পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের হাতে পরাজিত ও বন্দি হন। বন্দি অবস্থায় তাঁকে হত্যা করার জন্য মিরজাফরের পুত্র মিরন যাকে পাঠায় সে নবাবের বাবা-মায়ের পালিত পুত্র মোহাম্মদি বেগ। তাছাড়া দেশপ্রেমিক সেনাপতিদের জীবনও কেড়ে নেয় ইংরেজরা। এভাবেই ঘরের শত্রুর কাছে একজন দেশপ্রেমিক শাসকের পরাজয় ঘটে, যা উদ্দীপকের নবীন মাধবের ক্ষেত্রেও লক্ষ করা যায়। এ দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।