হৃদয়ে দেশপ্রেমের চেতনা ধারণ করায় "উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের চেতনা একই সূত্রে গাঁথা।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে বর্ণিত হয়েছে দেশপ্রেমিক ও দেশদ্রোহীদের কর্মকাণ্ড। দেশপ্রেমিক সিরাজ, মিরমর্দান, মোহনলাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণীয় হয়ে আছেন। পক্ষান্তরে স্বার্থপর নীচ মিরজাফর ঘসেটি বেগমরা ঘৃণাভরে নিন্দিত হচ্ছে।
উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে বর্গিবেশী হাদানার বাহিনীর নির্মমতার দৃষ্টান্ত। নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশের সাহসী সন্তানরা হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁদের রক্তদানে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তাই তাঁদেরকে দেশের মানুষ কখনো ভুলবে না। উদ্দীপকের বীর মুক্তিসেনাদের দেশের জন্য এমন আত্মত্যাগী চেতনা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও বাব সিরাজউদ্দৌলা, মোহনলাল, মিরমর্দান, বদ্রিআলি প্রমুখ দেশপ্রেমিকদের মধ্যে ফুটে উঠেছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেশপ্রেমিক সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় স্বার্থান্ধ ঘসেটি বেগম, মিরজাফর, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ, উমিচাঁদ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। এদের ষড়যন্ত্রের মুখে নবাবের পতন ছিল আবশ্যম্ভাবী। যুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত জেনেও দেশের স্বাধীনতা রক্ষার লক্ষ্যে জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন দেশপ্রেমিক সেনাপতি বদ্রিআলি, মিরমর্দান ও মোহনলাল। ইতিহাস তাঁদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণে রেখেছে। যেমন স্মরণে রেখেছে উদ্দীপকের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। ব। তাই বলা যায় যে, "উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের চেতনা একই সূত্রে গাঁথা।" আলোচ্য এ উক্তিটি যথার্থ।