কেবল ইংরেজদের অন্যায়-অত্যাচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরায় "উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের খন্ডাংশের প্রতিনিধিত্ব কবে"-মন্তব্যটি যথার্থ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল সুর হলো দেশপ্রেম। এ নাটকের পুরোভাগজুড়ে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ও ইংরেজদের আগ্রাসনের বিপরীতে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও তাঁর অনুগত সেনাদের অপরিসীম আত্মত্যাগ ও প্রাণপণ লড়াইয়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
উদ্দীপকে নীলচাষিদের ওপর দখলদার ইংরেজদের অন্যায়-অত্যাচার ও শোষণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তাদের অত্যাচার-নির্যাতনের ভয়ে এদেশের সাধারণ চাষিরা নীল চাষে বাধ্য হতো। শুধু তাই নয়, নীল চাষের কারণে চাষিরা তাদের প্রয়োজনীয় ফসল ফলাতে পারত না। এভাবে শোষিত ও নির্যাতিত হতে হতে একসময় তারা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে এবং ১৮৫৯ সালে সংঘটিত হওয়া সেই কৃষক বিদ্রোহ ধীরে ধীরে বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে শোষিত-নির্যাতিত হওয়ার চেয়ে নবাবের করুণ পরিণতি ও দেশপ্রেমের স্বরূপ প্রকটিত হয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে বাংলার স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য ইংরেজদের বিরুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বীরোচিত ভূমিকাকে তুলে ধরা হয়েছে। তা সত্ত্বেও নিজের প্রধান সেনাপতি মিরজাফর ও সভাসদদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে পলাশির যুদ্ধে তিনি পরাজিত হন। এছাড়াও নাটকটিতে নবাবের বিরুদ্ধে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, বিদেশি শক্তির অপতৎপরতা, তৎকালীন সমাজচিত্রসহ নানা বিষয় ফুটে উঠেছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। সেখানে কেবল এ নাটকে উল্লিখিত এদেশের সাধারণ মানুষের ওপর ইংরেজদের অন্যায়-অত্যাচারের প্রসঙ্গই এসেছে, অন্যান্য বিষয় নয়। এ বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।