মূল ভাবার্থের দিক থেকে "উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল বিষয়বস্তুকে ধারণ করেনি"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কাহিনি উন্মোচিত হয়েছে যুদ্ধ দিয়ে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার যুদ্ধের চিত্র ও পরিণতি নিয়ে নাট্যকাহিনি গড়ে উঠেছে। সেখানে দেখা যায়- নিজেদের লোকের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের কারণে বহিঃশক্তির কাছে নবাবের পতন ঘটেছে।
উদ্দীপকে টাকার পাগল কেয়ামত আলীর কথা তুলে ধরা হয়েছে, যে টাকা ছাড়া কিছুই বোঝে না। টাকার জন্য সে সবকিছু করতে পারে। টাকার জন্যই সে তার জীবনের জমানো সমস্ত টাকা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে অধিক মুনাফা পেতে চায়। হঠাৎ প্রতিষ্ঠানটি উধাও হয়ে গেলে প্রতারিত কেরামত আলী টাকার শোকে পাগল হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করে। উদ্দীপকের এ বিষয়টি কেবল 'সিরাজউদ্দৌলা নাটকের উমিচাঁদে লোভী মানসিকতা ও করুণ পরিণতির দিকটিকে ধারণ করেছে, যা উক্ত নাটকে একটি খণ্ডিত ও গৌণ দিক।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বিস্তৃত প্রেক্ষাপটের মধ্যে কেবল উমিচাঁদ চরিত্রটির বৈশিষ্ট্য উঠে এসেছে উদ্দীপকে। মূলত নাটকের বিষয় ও প্রেক্ষাপট অনেক বেশি বিস্তৃত। সেখানে মুখ্য করে দেখানো হয়েছে আপন মানুষদের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের কারণে কীভাবে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার করুণ পরাজয় ঘটেছে। পাশাপাশি ফুটে উঠেছে দেশপ্রেমিক বীর যোদ্ধাদের স্বদেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ। সেগুলোর কোনো কিছুই উদ্দীপকে নেই। সার্বিক পর্যালোচনায় তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল বিষয়বস্তুকে ধারণ করেনি।