পূর্বপুরুষদের কথা ও তাঁদের অনাদি অতীতের বিভিন্ন সংগ্রামের কথা বর্ণিত না হওয়ায় "উদ্দীপকটিতে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সমগ্র ভাবের প্রতিফলন ঘটেনি"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় আত্মপরিচয়ের সূত্র ধরে কবি এদেশের হাজার বছরের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যিক নানা অনুষঙ্গের কথা উত্থাপন করেছেন। বাঙালিদের পূর্বপুরুষরা মূলত কৃষিজীবী ছিলেন। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আর শ্রমনিষ্ঠার মাধ্যমেই বিরূপ পরিবেশেও তারা টিকে ছিলেন। সেই সংগ্রামী মনোভাবই বাঙালিদের স্বাধীনতা লাভে অনুপ্রাণিত করেছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি তাঁর মৃত্তিকাসংলগ্ন মনোভাবকে ব্যক্ত করেছেন। সেখানে বৈঠায়, লাঙলে কবি তাঁর হাতের স্পর্শের কথা বলে শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে নিজের একাত্মতাকে তুলে ধরেছেন। কবির ভাবনায় তিনি সেই শ্রমজীবীদেরই একজন প্রতিনিধি। এ-কারণেই তিনি শ্রমজীবীদের কাজের নানা উপকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা নির্দেশ করে আত্মপরিচয় তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকে ফুটে ওঠা এই মৃত্তিকাসংলগ্ন জীবনযাপনের দিকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায়ও একইভাবে পরিলক্ষিত হয়।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় আত্মপরিচয়ের সূত্র ধরে কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের কথা এবং তাঁদের অনাদি অতীতের বিভিন্ন সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা যেকোনো অন্যায়-আগ্রাসনের বিরুদ্ধেই সোচ্চার ছিলেন। এমনকি পরবর্তীতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, যার মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। উদ্দীপকে এসব বিষয় নেই। সেখানে কেবল আলোচ্য কবিতায় উল্লিখিত কবির পূর্বপুরুষদের মৃত্তিকাসংলগ্ন জীবনযাপনের দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে, অন্যান্য বিষয় নয়। সেই বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।