"উদ্দীপকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মূল বক্তব্যেরই ধারক।"- মন্তব্যটি যথাযথ।
বাঙালিদের পূর্বপুরুষরা মূলত কৃষিজীবী ছিল। অদম্য প্রচেষ্টা আর শ্রমনিষ্ঠার মাধ্যমেই বিরূপ পরিবেশেও তারা টিকে ছিল। তাই বলে কোনো অন্যায়ের সঙ্গে তারা আপস করেনি। অন্যায়-নির্যাতনের বিরুদ্ধে তারা সর্বদাই ছিল সোচ্চার।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষের কৃষিভিত্তিক জীবন, বিদেশি শত্রু শাসকদের অধীনে দাসত্বের যন্ত্রণা, ক্ষতচিহ্ন এবং তা থেকে উত্তরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। তিনি তাদের অধিকার সচেতনতার দিকটির কথা বলেছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশটি শ্রমজীবীদের উপজীব্য করে লেখা। এখানে কেউ কৃষক, কেউ কারখানার শ্রমিক, আবার কেউ তাঁতি বা কুমোর। এই শ্রমজীবীদের কঠোর শ্রমেই সমাজ-সভ্যতা আজও গতিশীল। আর তারাই আজকে আনুগত্যের সীমারেখা ভেদ করে অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে এমন আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয়টি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায়ও ফুটে উঠেছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় আত্মপরিচয়ের সূত্র ধরে কবি এ দেশের হাজার বছরের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যিক নানা অনুষঙ্গের কথা উত্থাপন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি আমাদের পূর্বপুরুষদের কথা এবং তাদের অনাদি অতীতের বিভিন্ন সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা যেকোনো অন্যায়-আগ্রাসনের বিরুদ্ধেই ছিলেন সোচ্চার। এমনকি পরবর্তীতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, যার মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা। উদ্দীপকের শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও একই রূপ বিপ্লবী মনোভাবের ইঙ্গিত রয়েছে। সেই বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ ও অর্থবহ।