“উদ্দীপকের এ দেশের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিক্রমা 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার চৈতন্যগত দিকের সঙ্গে অভিন্ন।” -মন্তব্যটি যথার্থ হয়েছে।
“আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় পূর্বপুরুষদের কথা বলা হয়েছে, যারা রক্তজবার মতো ক্ষত পিঠে নিয়েও অরণ্য ও শ্বাপদের মোকাবিলা করতেন। মুক্তির পূর্ব শর্ত যুদ্ধ হওয়ায় কবির, পূর্বপুরুষরা বারবার যুদ্ধ করে টিকে থেকেছে। যুদ্ধে আপনজনের থেকে দূরে চলে গিয়ে দেশকে মুক্ত করার গৌরবগাথা রচিত হয়েছে এই কবিতায় ।
উদ্দীপকে সেইসব মানুষের ইতিহাস নিয়ে কথা বলা হয়েছে যাদের নিয়ে আমরা গর্ব বোধ করতে পারি। তাদের আত্মত্যাগের মধ্যেই আমরা পাই সামনে চলার শক্তি। সুখ-সমৃদ্ধিতে ঐশ্বর্যময় এবং প্রাণৈশ্বর্যে ভরপুর এই সুন্দর দেশটি বর্গীর আক্রমণ থেকে শুরু করে বার বার শত্রুর লোলুপ দৃষ্টিতে পড়ে বিপর্যস্ত হয়েছে এ দেশের সহজ-সরল মানুষের জনজীবন, অর্থনৈতিক বুনিয়াদ এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য । কিন্তু কোনো শত্রুর কাছে পরাভব মানেনি এ দেশের গণমানুষ। নুরলদীন-তিতুমীর-হাজী শরিয়তউল্লাহ-সূর্যসেন-প্রীতিলতা-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো বিপ্লবীদের জন্যই আমাদের রয়েছে এক সংগ্রামী গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটি বাঙালির দুঃখ, সংগ্রাম ও ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করে। নির্যাতনের শিকার হয়ে বাঙালি বরাবরই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। নিজের পরিবার ও ব্যক্তিস্বার্থের বাইরে বের হয়ে দেশমাতাকে ও দেশের স্বার্থকে বড়ো করে দেখেছে। বোনের মৃত্যু, ভাইয়ের আত্মত্যাগ সবকিছুর মধ্যে মাথা নত না করার স্পর্ধা লুকিয়ে আছে যা আমাদের গর্ববোধ করায়। উদ্দীপকেও ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আত্মত্যাগী মানসিকতার কারণে বাঙালি যে গৌরব অর্জন করেছে তারই রূপ প্রকাশিত হয়েছে।
“উদ্দীপকের এ দেশের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিক্রমা 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার চৈতন্যগত দিকের সঙ্গে অভিন্ন।” -মন্তব্যটি যথার্থ।