উদ্দীপকের বক্তব্য 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মৌলসত্য – মন্তব্যটি যথার্থ ।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের বন্দিজীবনে কাটানোর কথা বলেছেন। তাঁদের পিঠে রক্তজবার মতো গভীর ক্ষতের কথা উল্লেখ করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি শিকড়সন্ধানী মানুষের সার্বিক মুক্তির দৃপ্ত ঘোষণা দিয়েছেন। কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথাও বলেছেন। তাঁর ত মতে, আমাদের ঐতিহ্য হলো কৃষিজীবী, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের লড়াই করে টিকে থাকার ইতিহাস। তাঁদের ওপর বর্বর নির্যাতনের ইতিহাসকেও বহন করে চলেছি আমরা ।
উদ্দীপকে শ্রমজীবী মানুষদের জীবনবাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। যাদের শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে পৃথিবী বসবাসের যোগ্য হয়ে উঠেছে। তাঁদের ওপর-ই যুগ যুগ ধরে নেমে এসেছে অত্যাচারের হস্ত ।
পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ আমাদের পূর্বপুরুষদের দীর্ঘদিন ধরে সহ্য করতে হয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। কিন্তু মুক্তিসংগ্রামীদের অদম্য মানসিকতার ফলেই আমরা পেয়েছি মুক্তির আনন্দ। মূলত, আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় উচ্চারিত হয়েছে শিকড়সন্ধানী মানুষের সর্বাঙ্গীন মুক্তির ঘোষণা। আর উদ্দীপকে আমাদের শ্রমজীবী মানুষের অত্যাচারিত হওয়ার নির্মম সত্যতা তুলে ধরা হয়েছে। সেই সাথে আমাদের পূর্বপুরুষ তথা এই অত্যাচারিত শ্রমজীবী মানুষদের ঋণ শোধের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, তাদের মুক্তির কথা বলা হয়েছে । তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।