"উদ্দীপকের ড. সামাদ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কবি চৈতন্যগত দিক থেকে অভিন্ন"- মন্তব্যটির সাথে আমি দ্বিমত পোষণ করি।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের বন্দিজীবন কাটানোর কথা বলেছেন। তাঁদের পিঠে রক্তজবার মতো গভীর ক্ষতের কথা উল্লেখ করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি শেকড়সন্ধানী মানুষের সার্বিক মুক্তির দৃপ্ত ঘোষণা দিয়েছেন। কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের সাহসী, সংগ্রামী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথাও বলেছেন। তাঁর মতে, আমাদের ঐতিহ্য হলো কৃষিজীবী, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের লড়াই করে টিকে থাকার ইতিহাস। তাঁদের ওপর বর্বর নির্যাতনের ইতিহাসকেও বহন করে চলেছি আমরা।
উদ্দীপকের সমাজবিজ্ঞানী ড. সামাদ আমাদের পূর্বপুরুষদের পেশার কথা উল্লেখ করেছেন, তাঁদের ওপর বিদেশি শোষকদের অত্যাচারের কথা বলেছেন। তিনি তাঁদের তাঁদের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথাও বলেছেন। কিন্তু পূর্বপুরুষদের রুখে দাঁড়ানোর কথা বলেননি। তাঁদের লড়াই-সংগ্রামের কথা, দুর্গম বাধা ডিঙানোর কথা বলেননি। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি যেমন তাঁর পূর্বপুরুষদের গৌরবময় জীবনের ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলেছেন, তেমনি ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম ও ভালোবাসার কথাও বলেছেন।
উদ্দীপকে ড. সামাদ পূর্বপুরুষদের ওপর শত্রুর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তাঁদের ত্যাগের স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি তাঁর শত্রু বা শোষকের পরিচয় 'বিদেশি' বলে উল্লেখ করলেও কবি তা নির্দিষ্ট করেননি। তাই "উদ্দীপকের ড. সামাদ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কবি চৈতন্যগত দিক থেকে অভিন্ন"- মন্তব্যটির সাথে আমি দ্বিমত পোষণ করে বলছি, উক্তিটি পুরোপুরি সত্য নয়।