"উদ্দীপকে প্রতিফলিত সংগ্রামী চেতনা যেন 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ভাবসত্যের সংহতরূপ”- মন্তব্যটি যথার্থ।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় পরাধীনতার গ্লানি থেকে উত্তরণের জন্য বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস উঠে এসেছে। এ কবিতায় উচ্চারিত হয়েছে শিকড়সন্ধানী মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তির ঘোষণা। কবি তাঁর লেখনীর মধ্য দিয়ে আমাদের পূর্বপুরুষদের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা উপস্থাপন করেছেন।
উদ্দীপকে বাঙালির আবহমান কালের সমৃদ্ধি ও শৌর্য-বীর্যের কথা অঙ্কিত হয়েছে। ইতিহাস অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাঙালি কৃষিকাজে সমৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি প্রস্তুত থেকেছে শত্রুকে মোকাবিলার জন্য। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্তিত্বের প্রয়োজনে বাঙালি সহজেই হাতে তুলে নিতে পেরেছিল আগ্নেয়াস্ত্র। সেই অস্ত্রের আঘাতে শত্রুরা আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছিল এবং এভাবেই রচিত হয়েছিল বাঙালির নতুন ইতিহাস।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির বীরত্বের পরিচয় ফুটে উঠেছে। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে আমরা ছিনিয়ে এনেছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ আমাদের পূর্বপুরুষদের দীর্ঘদিন ধরে সহ্য করতে হয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। কিন্তু মুক্তিসংগ্রামীদের অদম্য মানসিকতার ফলেই আমরা পেয়েছি মুক্তির আনন্দ। অপরদিকে, উদ্দীপকেও বাঙালির আপসহীন মানসিকতার পরিচয় ফুটে উঠেছে। বাঙালি যে অস্ত্র দিয়ে শস্য চাষ করেছে, সেই অস্ত্র দিয়েই দেশকে শত্রুমুক্ত করেছে। সুতরাং, উদ্দীপকে বাঙালির যে আপসহীন মনোভাবের দিকটি উঠে এসেছে আলোচ্য কবিতায়, তা আরও সংহতরূপে প্রকাশ পেয়েছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।