• "অনুচ্ছেদের মূলভাবের শিল্প পরিণতি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মৌল প্রতিপাদ্য"- মন্তব্যটি যথার্থ।
• লোভী ও অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিরা আত্মস্বার্থে যেকোনো সময় বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। কাছের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতায় অনেক দেশপ্রেমিক নেতার জীবনে নেমে এসেছিল নির্মম পরিণতি।
• অনুচ্ছেদের নূরুল আমিন এদেশের সন্তান হয়েও পুলিশ বাহিনীকে এদেশের ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ ও গুলি চালাতে নির্দেশ দেয়। তার মতো কুচক্রীমহলের হীন স্বার্থচিন্তায় এদেশের মানুষেরই বুকের রক্তে বারবার বেদনায় নীল হয়েছে বাংলার ইতিহাস। এমন করুণ পরিণতি যেন 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজের করুণ পরিণতিকেই 'স্মরণ করিয়ে দেয়। কেননা যে নবাব সারাটি জীবন দেশের জন্য কাজ করেছেন, দেশের মানুষের কষ্টে ব্যথিত হয়েছেন, সেই নবাবকে তার কাছের মানুষের ষড়যন্ত্রে মৃত্যুবরণ করতে হয়, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক।
• 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাবকে খুব কাছের অমাত্য মিরজাফর, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ প্রমুখ বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্রে পলাশির যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে বন্দি হতে হয়। তিনি অত্যন্ত অবাক ও মর্মাহত হন যখন দেখেন মোহাম্মদি বেগ তাকে হত্যা করার জন্য এগিয়ে আসে। কেননা এই মোহাম্মদি বেগকে নবাবের পিতা পরম যত্নে, আদর-স্নেহে মানুষ করেন। অথচ তার হাতেই নবাবকে মৃত্যুবরণ করতে হয়, যা সত্যিই করুণ ও মর্মান্তিক। অনুচ্ছেদের ছাত্র-জনতার সঙ্গেও এমনই করুণ পরিণতি দেখা যায়। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।