• "আপাত ব্যর্থতা থাকলেও বীরের প্রত্যয়ই যুগে যুগে স্বাধীনতার স্পৃহা জোগায়"-বিষয়টির প্রতি আমি সমর্থন জ্ঞাপন করছি।
• পৃথিবীতে অন্যায়-অবিচার, জুলুম-নির্যাতন বেড়ে গেলে পরিত্রাতা হিসেবে অদম্য সাহসী বীরদের আগমন ঘটে। সমাজ ও রাষ্ট্রযন্ত্রের অপশাসন-শোষণই তৈরি করে বীরদের। তাদের হাতেই সাধারণ মানুষ স্বাধীনতার অনুপ্রেরণা পায়।
• উদ্দীপকে ঘোষিত হয়েছে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রথম বিপ্লবী শহিদ তিতুমীরের, বীরত্বের গাথা। ইংরেজ বেনিয়া শক্তির শোষণের হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য সশস্ত্র বিপ্লবের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি। সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে প্রস্তুত করেন বাঁশের কেল্লা। তিতুমীর পরাজিত হলেও তাঁর এই সাময়িক পরাজয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে অনুপ্রাণিত করে। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ইংরেজ বেনিয়া শক্তির ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মুখে নবাবের পরাজয় নিশ্চিত জেনেও নবাবের বিশ্বস্ত সেনাপ্রধান মিরমর্দান মোহনলাল প্রমুখ দেশপ্রেমিক বীর জীবনের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান।
• উদ্দীপকের তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ধ্বংস হলেও ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষের মধ্যে তা প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। তারা বুঝতে পারে সশস্ত্র অভ্যুত্থান ছাড়া পরদেশি শাসকদের শোষণ থেকে মুক্তি সম্ভব। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও দেশপ্রেমিক বীরদের লড়াই করার উদ্দেশ্য ছিল তাই। এই যুদ্ধ করার মানসিকতার অনুপ্রেরণা নিয়েই পরবর্তীকালে বক্সারের যুদ্ধ, সিপাহি বিপ্লব, ফরায়েজি আন্দোলন, স্বদেশি আন্দোলন এবং শেষ পর্যন্ত দুশ বছরের ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটে। তাই বলা যায় যে, আপাত ব্যর্থতা থাকলেও বীরের প্রত্যয়ই যুগ যুগ ধরে স্বাধীনতার স্পৃহা জোগায়।