• বিশ্বাসঘাতকরা দেশ ও জাতির শত্রু। আত্মস্বার্থ ও ক্ষমতার লোভে পড়ে তারা স্বদেশ ও স্বজাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। লোভে পড়ে তারা এতটাই অন্ধ হয় যে, বহিঃশত্রুর সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজ দেশের ক্ষতি করতেও দ্বিধা বোধ করে না। আর বহিঃশত্রুরাও এই সুযোগকে লুফে নেয়।
• উদ্দীপকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দৃঢ় রাখতে জাতীয়তাবাদের কথা বলা হয়েছে। পারস্পরিক বিশ্বাস ও আত্মীয়তা অনুভব হচ্ছে রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি। এদেশ ঐক্যহীন হয়ে পড়লে বাইরের শত্রুরা দেশকে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ নেয়। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে এরকমটি সংঘটিত হয়েছে। নবাব সিরাজের বিরুদ্ধে তাঁর আপনজনেরা ষড়যন্ত্র করে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। যার ফলে দেশের ঐক্য ভেঙে গিয়ে শাসন কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। মিরজাফর ক্ষমতা পাওয়ার লোভে দায়িত্বরত প্রায় সবাইকে হাত করে নেয়। তারপর সিরাজের নিশ্চিত পতনের জন্য হাত মেলায় ইংরেজদের সঙ্গে। লর্ড ক্লাইভতাদের শর্ত সাপেক্ষে সাহায্য করতে রাজি হয়। নবাবের ঘরের লোকের আমন্ত্রণে সুযোগ পায় লর্ড ক্লাইভ। মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে পতন ঘটে সিরাজের। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত পারস্পরিক বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মিরজাফর ও লর্ড ক্লাইভ দেশের জাতীয়তাবাদের ভিত্তি নষ্ট করে দেয়। তাদের এই ষড়যন্ত্রের ফলে আবশ্যিকভাবে পতন ঘটে নবাব সিরাজউদ্দৌলার।
• 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাবের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করে তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল মিরজাফর লর্ড ক্লাইভ।