• উদ্দীপকটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের সামগ্রিক ভাব ধারণ করে না।
• মহৎ ব্যক্তিরা নিঃস্বার্থভাবে পৃথিবীতে মানবসেবার অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তবে সত্যিকারের মানব-কল্যাণ হলো তা, যা মানুষকে আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলে। অন্যথায় মানব-কল্যাণ হয়ে পড়ে মানবমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার কারণ।
• 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক প্রকৃত অর্থে মানব-কল্যাণের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেছেন। আমাদের সমাজে কেবল দান-খয়রাতকে মানব-কল্যাণ বলে বিবেচনা করা হলেও এতে মানবমর্যাদা রক্ষিত হয় না, বরং মানুষকে ছোট করা হয়। তিনি বলেন, মানব-কল্যাণ করতে চাইলে মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করতে হবে। এর জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বৈজ্ঞানিক, র্যাশনাল ও সুবুদ্ধির মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।
• যথাযথ বিবেকবোধসম্পন্ন মানুষই সমাজের কল্যাণ করতে পারে। কিন্তু এর জন্য সমাজকে সেই সুযোগ তৈরি করে দিতে হয়, যা উদ্দীপকে বলা হয়েছে। 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধেও মানুষের বিকাশের পেছনে সমাজের ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। প্রেম, সৌন্দর্য ও আনন্দ সম্বন্ধে চেতনা জাগিয়ে তোলার মাধ্যমেই একজন মানুষ প্রকৃত মানবচেতনাসমৃদ্ধ মানুষে পরিণত হয়। এর ফলে তারা আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের কেবল মানব বিকাশের দিককে উল্লেখ করে উদ্দীপকে বলা হয়েছে, লেখকের বহুবিধ চিন্তার বহিঃপ্রকাশ উদ্দীপকে অনুপস্থিত। সুতরাং আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের সামগ্রিক ভাব ধারণ করেনি।