উদ্দীপকের কবিতাংশ মানব-কল্যাণের জন্য শুধু নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে, যা 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের আংশিক প্ৰতিচ্ছবি, পূর্ণাঙ্গ নয় ।
মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে প্রকৃত মানব-কল্যাণের স্বরূপ আলোচনা করা হয়েছে। প্রকৃত মানব-কল্যাণ যে প্রচলিত মানব-কল্যাণ থেকে ভিন্ন সেদিকটি লেখক বিশদ বর্ণনার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি, প্রকৃত মানব-কল্যাণ কীভাবে অর্জন করা যায়, এর পথে অন্তরায় কী কী; কীভাবে কাজ করলে প্রকৃত মানব-কল্যাণ অর্জন করা সম্ভব; দেশ বা রাষ্ট্র বা সমাজের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত প্রভৃতি বিষয় নিয়েও
আলোচনা করেছেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে কীভাবে আত্মত্যাগ করতে হয় তার স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে। নিজ-স্বার্থকে উপেক্ষা করে পরের কারণে নিঃস্বার্থভাবে নিজেকে উজাড় করে দিলেই যে পৃথিবীতে প্রকৃত কল্যাণ আসতে পারে তা উদ্দীপক থেকে খুবই স্পষ্ট বোঝা যায়। জীব-জড় নির্বিশেষে প্রত্যেকেই কল্যাণের জন্য আত্মত্যাগ করছে। এসব থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষেরও উচিত প্রকৃত মানব-কল্যাণে পর-স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করা । তবেই প্রকৃত মানব-কল্যাণ সাধিত হবে ।
উদ্দীপকের কবিতাংশে মানব-কল্যাণের একটি দিক আলোচিত হলেও তা মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের অধিকাংশ দিককে তুলে ধরতে পারেনি। উদ্দীপকে নদী, তবু, গাভি, কাঠ, স্বর্ণ, বংশী, জলধর কিংবা সাধু প্রত্যেকেই নিঃস্বার্থভাবে আত্মত্যাগের মাধ্যমে পৃথিবীকে সুন্দর করেছে। এতে প্রকৃত মানব-কল্যাণের জন্য প্রকৃত আত্মত্যাগের স্বরূপ উপস্থাপিত হয়েছে। পক্ষান্তরে, 'মানব- কল্যাণ' প্রবন্ধে প্রকৃত মানব কল্যাণের প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে এছাড়া এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রকৃত পদ্ধতি ও প্রণালি, আত্মত্যাগের স্বরূপ এবং নানা প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের আংশিক প্রতিচ্ছবি, পূর্ণাঙ্গ নয় ।