“উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয় 'মানব কল্যাণ' প্রবন্ধটির সমগ্র ভাবের ধারক নয়।" - কথাটি যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।
'মানব কল্যাণ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক মানব কল্যাপের একটি সার্বজনীন ধারণা 'মানব উপস্থাপন করেছেন। প্রাবন্ধিকের মতে, মানুষকে আত্মমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত 'মানব-ক করার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে মানব কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়। এজন্য বিষয়টির সামান্য কিছু দান-খয়রাত দিয়ে মানব-মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না করে মানুষের মর্যাদা | বাইরে গিে বৃদ্ধি ও মানবিক চেতনাকে বিকাশ করার ওপর তিনি পুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর আমাদের মতে, মানব-কল্যাণ হলো মানুষের সার্বিক মঙ্গলের প্রয়াস ।
উদ্দীপকে লেখক মতি গাজী সর্বদা মানবতাকে উচ্চ মর্যাদায় স্থান দিতে চেষ্টা করেন। ভিক্ষাবৃত্তিকে তিনি চরম অপছন্দ করেন। কারণ, এতে মানবতার মূল্যায়ন হয় না। এক মুষ্টি ভিক্ষা সাময়িক দাক্ষিণ্য হলেও প্রকৃত মানব কল্যাণের চিন্তা সৃজন হয় না ৷ এটি মানব কল্যাণ' প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলেও সমগ্র ভাব নয়।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে উদ্দীপকের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে। তবে রচনাটি মানব-কল্যাণের একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা প্রকাশ করেছে। প্রাবন্ধিক মনে করেন, দান বা ভিক্ষা মানব মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করে। যে বা যারাই সামান্য কিছু দান করার মাধ্যমে মানবকল্যাণ করেছেন তারা মূলত মানুষকে অপমান করেন। কেননা এই সাময়িক দান করে মানব উন্নয়ন করা সম্ভব হয় না। বরং যারা এ কাজ করেন তারা লোক দেখানো মানবকল্যাণ করে নিজেদের দানশীল প্রমাণেই ব্যস্ত থাকেন। প্রাবন্ধিকের মতে, এমন কর্ম বন্ধ করে সামগ্রিক ও স্থায়ী মানব উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালাতে হবে । বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠন, সরকার ও ব্যক্তিকে বিভক্তিকরণ বন্ধ করে এক ও অভিন্ন লক্ষে মানব কল্যাণে নিয়োজিত থাকতে হবে। আর তা হলো আত্মমর্যাদা সমুন্নত রেখে মানবের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চত করা। মুক্তবুদ্ধির মাধ্যমে পরিকল্পনামাফিক পথেই কল্যাণময় পৃথিবী রচনা করা সম্ভব। সেদিকে লক্ষ রেখে সবাই কাজ করলে তবেই প্রকৃত মানবকল্যাণ করা হবে। 'মানকল্যাণ' প্রবন্ধের এই সামগ্রিক মানবকল্যাণ উদ্দীপকে ফুটে ওঠেনি। কেবল সাময়িক দান খয়রাত যে মানব কল্যাণ হতে পারে না সে বিষয়টি উঠে আসায় উদ্দীপকটি 'মানবকল্যাণ' প্রবন্ধের সমস্তভাব নয়, আংশিক ভাব ধারণ করেছে বলাই সমীচীন।