"উদ্দীপকের লীলার কার্যক্রমে যেন 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূল বক্তব্য রয়েছে"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানবকল্যাণ এমন একটি বৃহত্তর ধারণা, যেখানে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা বজায় রেখে তার সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের পথকে প্রশস্ত করা হয়। আর তাই মানব-মর্যাদা ভূ-লুণ্ঠিত হয় এমন কোনো কাজকে আর যাই হোক, মানবকল্যাণ বলে অভিহিত করা যায় না।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে মানবসেবায় এগিয়ে আসতে বলেছেন। ধর্ম-বর্ণ-জাতির দোহাই দিয়ে বিভক্তিকরণ নীতি গ্রহণ না করে তিনি মানুষকে মানবিক হয়ে মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করতে বলেছেন। উদ্দীপকের লীলার মাঝে এ গুণ লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের লীলার স্বামী প্রভূত ধন-সম্পদের মালিক। বিভিন্ন উৎসবে-অনুষ্ঠানে তিনি দু-হাত খুলে দান-খয়রাত করতেন। তাই তার মৃত্যুর পর লীলাও মানবকল্যাণে প্রবৃত্ত হন। এজন্য স্বামীর সম্পত্তির অর্ধেক বিক্রি করে তিনি এলাকার গরিব ছেলেমেয়েদের জন্য একটি কর্মমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। এতে করে এলাকার গরিব ছেলেমেয়েরা স্বাবলম্বী হয়ে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার পথ খুঁজে পায়।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক মানবকল্যাণ বলতে মানুষের সার্বিক উন্নতির প্রয়াসকে বুঝিয়েছেন, যার মধ্য দিয়ে সব রকম অবমাননাকর পরিস্থিতি থেকে মানুষের উত্তরণ সম্ভব হবে। আলোচ্য উদ্দীপকের লীলার কর্মকাণ্ডেও বিষয়টি একইভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এ কারণেই তিনি দান-খয়রাতের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণের আপাত চেষ্টাকে বাদ দিয়ে গরিব ছেলেমেয়েদের সাবলম্বী করে তোলার পথ তৈরি করেন। এর ফলে এলাকার গরিব ছেলেমেয়েরা স্বাবলম্বী হওয়ার উপায় খুঁজে পায় এবং সম্মানজনকভাবে বাঁচতে শেখে। তার এমন কর্মকাণ্ড 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের লেখকের চিন্তাকেই তুলে ধরে। সেই বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযর্থ।