উদ্দীপকের কবিতাংশে কেবল আত্মস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে পারস্পরিক সংযোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে কল্যাণময় পৃথিবী রচনার কথা বলা হয়েছে, যা 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের আংশিক প্রতিফলন মাত্র ।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক 'মানব-কল্যাণ' কথাটির স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আরএটি করতে গিয়ে তিনি নানা বিষয়ের সমাবেশ ঘটিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন, করুণার বশবর্তী হয়ে দানখয়রাত করলে কীভাবে মানব-মর্যাদার অপমান ঘটে। আমাদের সমাজ যে এরূপ উপলব্ধিহীন মানুষে ভরে আছে, সেটিও তিনি দৃষ্টান্ত দিয়ে দেখিয়েছেন। এছাড়া রাষ্ট্র, জাতি, সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীগত চেতনা কীভাবে প্রকৃত মানব- কল্যাণের অন্তরায় ঘটাচ্ছে, সে বিষয়টিও তিনি দেখিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি একটি আত্মমর্যাদাপূর্ণ জাতি গড়ে তোলার সহায়ক দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন।
উদ্দীপকে পরার্থে আত্মস্বার্থ বিসর্জনের মাধ্যমে পারস্পরিক সাহায্য- সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমেই যে পৃথিবীতে সুখ লাভ সম্ভব এবং কল্যাণময় পৃথিবী রচনা সম্ভব, সে বিষয়টি তুলে ধরেছেন কবি। কবির মতে, নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে কারও জন্ম হয়নি বরং অন্যের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারলেই জীবন তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে ।
আলোচ্য প্রবন্ধে লেখক মানব-কল্যাণকে বলেছেন জাগতিক মানবধর্ম, যার সাথে মানব-মর্যাদার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। মানব মর্যাদা তখনই সার্বিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন সমাজের মানুষ মনুষ্যত্ববোধকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে এবং মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় অগ্রবর্তী হবে। এক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত পরার্থে আত্মস্বার্থ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতার দিকটিও অপরিহার্য। তবে প্রবন্ধ | অনুসারে এটিই মানব-কল্যাণ নিশ্চিতের একমাত্র উপায় নয়। লেখক মনে করেন, কেবল সদিচ্ছা থাকলেই মানব-কল্যাণ সম্ভব নয়। মানুষের সার্বিক মুক্তির জন্য ব্যক্তির নিজের যেমন ভূমিকা রয়েছে, তেমনি রয়েছে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রসহ সামাজিক সকল প্রতিষ্ঠানের । প্রবন্ধে এছাড়াও কল্যাণময় পৃথিবী রচনায় লেখক গুরুত্ব দিয়েছেন মুক্তবুদ্ধির চর্চার ওপর, যার ফলে সুপরিকল্পিত, যুক্তিপূর্ণ একটি সমাজ নির্মাণ সম্ভব। উদ্দীপকে প্রবন্ধের এ দিকগুলো তুলে ধরা হয়নি। তাই বলা যায়, কবিতাংশটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের আংশিক প্রতিফলন ।