উদ্দীপকের মূলভাব 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের আত্মমর্যাদা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, মানবকল্যাণে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর্তব্য প্রভৃতি মূলভাবকে সামগ্রিকভাবে ফুটিয়ে তোলেনি।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূলভাবে সামগ্রিকভাবে ফুটে উঠেছে মানবকল্যাণের উদ্দেশ্য, ধরন, প্রভাব ইত্যাদি। লোক-দেখানো মানবকল্যাণ যে মানুষের আত্মমর্যাদা নষ্ট করে, সে বিষয়টিতেও আলোকপাত করা হয়েছে। তাছাড়া মুক্তিবুদ্ধির চর্চার মাধ্যমে কীভাবে কল্যাণময় পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব, সেটিও তুলে ধরা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে মানবকল্যাণ করতে হলে ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্র ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে ভূমিকা রাখতে হয় ।
উদ্দীপকের মূলভাবে কেবল অপরের কল্যাণ করার কথা বলা হয়েছে। নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে হলেও অন্যের হিত চিন্তা করা প্রয়োজন। দীন- দুঃখীর মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিতে হবে। সকাল-সন্ধ্যায় অন্যের দুঃখ দূর করার প্রচেষ্টায় থাকতে হবে।মানব কল্যাণ প্রবন্ধে শুধু অপরের কল্যাণ করাকেই মূল প্রাতিপাদ্য করা হয়নি,বরং অন্যের মঙ্গল যেন যথাযথভাবে হয় সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।তুচ্ছ জিনিস দান করে জাহির করা হয়মানবতার দরদি হিসেবে। এসবের মূল উদ্দেশ্য মানবকল্যাণ নয়। এতে মানুষকে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়। মানব মর্যাদা নষ্ট করে কখনো কারো কল্যাণ করা যায় না। সামান্য কিছু দেওয়ার নাম মানবকল্যাণ নয় । মানুষের সার্বিক মঙ্গল করার প্রয়াসই প্রকৃত অর্থে মানবকল্যাণ। এ কাজ রাষ্ট্রকেও করতে হবে। একাকী কারো পক্ষে মানুষের সার্বিক কল্যাণ করা অসম্ভব। মুক্তিবুদ্ধির সাহায্যে সুপরিকল্পিত পথেই কল্যাণময় পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব। মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কিংবা কোনো রকম অপমান-অবমাননার পথ ধরে মানবকল্যাণ সাধিত হতে পারে না। প্রবন্ধের এই সামগ্রিক মূলভাব উদ্দীপকের মূলভাবে ফুটে ওঠেনি। কেবলমাত্র অন্যের কল্যাণের জন্য নিজেকে নিয়োজিত রাখার মূলভাবই উদ্দীপকে প্রতীয়মান হয়।