'আমার পথ' প্রবন্ধে সত্যপথ অবলম্বন ছাড়া আরও বিষয়াদি থাকায় বলা যায় যে, উদ্দীপকটি 'আমার পথ' প্রবন্ধের বক্তব্য পুরোপুরি ধারণ করেনি।
প্রবন্ধের লেখক সত্যপথে চলার এবং সত্য কথা বলার ক্ষেত্রে নির্ভীক চিত্ত হতে বলেছেন। তিনি অবিনয়কে মানতে রাজি, কিন্তু অন্যায়কে সহ্য করতে রাজি নন। তিনি ভুল স্বীকার করতে রাজি, কিন্তু ভুল জেনেও তাকে সঠিক বলাটাকে ভণ্ডামি বলে মনে করেন। মানুষের মাঝে ক্ষুদ্র কারণে যেসব হিংসাত্মক কাজ সংঘটিত হয়, তিনি তার বিরোধিতা করেছেন। মানবধর্ম সকল ধর্মের সেরা বিবেচনার যে বোধ তা জাগ্রত হলেই মানুষের সকল দ্বন্দ্ব মিটে যাবে বলে প্রাবন্ধিক মনে করেন ।
উদ্দীপকের শাকিল সাহেব সত্যের অনুসারী। তাই তার সাহস আছে ভুলকে ভুল ও সঠিককে সঠিক বলার। তার এই স্পষ্টভাষী স্বভাব অনেকের কাছে দম্ভ মনে হলেও তিনি তা নিয়ে চিন্তিত নন। এক পর্যায়ে তিনি তার এই চরিত্রের জন্যই পদোন্নতি প্রাপ্ত হন ।
'আমার পথ' প্রবন্ধে লেখক 'আমি' সত্তার প্রকাশের মাধ্যমে সত্যপথের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। 'আমি' সত্তার কারণেই মিথ্যাকে জয় করে সত্যের আলোয় নিজেকে চিনে নেওয়া যায় বলে বলেছেন তিনি। আবার লেখক ভুল আর ভণ্ডামির মধ্যে পার্থক্য তৈরি করেছেন। তাঁর মতে, ভুলকে সঠিক বলে প্রচার করাটাই ভণ্ডামি। তিনি ধর্মের চেয়ে মনুষ্যত্ববোধকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ধর্মের বিরোধ মিটিয়ে সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তুললে উৎকৃষ্ট মানবসমাজ গঠিত হবে। উদ্দীপকে শুধু সত্যের পথ ধরে এগোনোর দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। সেদিক বিবেচনায় বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।