কবি নজরুল ও কবিগুরু উভয়ে সত্যের প্রতি আত্মনিবেদন করলেও উভয়ের মধ্যে উপলব্ধিগত পার্থক্য বিদ্যমান। কারণ নজরুল ইসলাম আপন সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত হওয়ার কথা বলেছেন আর কবিগুর সার্বিক সত্যের পথ আঁকড়ে ধরেছেন।
•
'আমার পথ' প্রবন্ধে লেখক এমন এক 'আমি'র আবাহন প্রত্যাশা করেছেন যার পথ সত্যের পথ; সত্য প্রকাশে যে নির্ভীক অসংকোচ । সে আত্মাকে চেনে বলে তার আছে আত্মনির্ভরতা। আর আত্মনির্ভরতা এমন এক শক্তি যা মানুষকে দেয় অসাধ্য সাধনের ক্ষমতা। লেখক তাই আত্মনির্ভরতা অর্জনের জন্য সকলকে আপন সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত হওয়ার প্রেরণা দিয়েছেন ।
উদ্দীপকে কবিগুরু বলেছেন, সত্য কঠিন, নির্মম তবু সত্যকেই জীবনের চালিকাশক্তি করা উচিত। সত্য মানুষের জীবনকে সুন্দর করে তোলে। সত্য কঠিন হলেও সত্যের মধ্যেই জীবনের মর্মার্থ নিহিত রয়েছে । তাই কবি সত্যকে ভালোবেসেছেন ।
'আমার পথ' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক সত্যপথের অটল অনুসারী। সত্য প্রকাশে তিনি নির্ভীক । রুদ্র-তেজে মিথ্যার ভয়কে জয় করে আপন সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত হওয়ার দীক্ষা তিনি দিয়েছেন। অন্যদিকে, কবিগুরু যে সত্যকে অবলম্বন করেছেন সেই সত্য জীবনের এক সার্বিক সত্য। এই সত্যের মধ্যে যেমন আপন সত্য নিহিত রয়েছে তেমনি পৃথিবীর সামগ্রিক সত্যের উন্মেষও এখানে বিদ্যমান। সুতরাং, নজরুল ইসলাম নিজ সত্যের শক্তিতে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আর কবিগুরু সর্বজনীন সত্যের পথ অবলম্বন করেছেন। তাই বলা যায়, তাঁরা উভয়ই সত্যের প্রতি আত্মনিবেদন করলেও তাঁদের উপলব্ধিতে পার্থক্য সুস্পষ্ট ।